Beta

ইয়েমেনে বিদ্রোহীদের এলাকায় বাড়ছে কলেরা

২৭ আগস্ট ২০১৭, ১৮:২৯

আলজাজিরা

ইয়েমেনে বর্তমানে যত মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তার মধ্যে ৯০ ভাগই হুতি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। নিয়মিত বিমান হামলা ও অবরোধের কারণে হাসপাতাল-ক্লিনিক ধ্বংস, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকা ও খাদ্য সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আলজাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্তার (ডব্লিউএইচও) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আলজাজিরা বলছে, ইয়েমেনে সম্প্রতি দুই হাজার তিনজন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর মধ্যে এক হাজার ৭৯৪ জনই মারা যায় হুতি মিলিশিয়া বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে। যা মোট কলেরায় মৃতের ৯০ ভাগ।

আলজাজিরার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি জোট সরকারের বিমান হামলা ও অবরোধ অব্যাহত থাকায় সেখানে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে নিযুক্ত ইউনিসেফের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ড. শেরিন ভার্কে বলেন, ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি জোট, উভয় পক্ষই দায়ী। তবে, সৌদি জোটের বিমান হামলা কলেরা পরিস্থিতিকে ভয়ংকর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

২০১৫ সালে মার্চে দক্ষিণ ইয়েমেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে সেখানে ভয়ংকর খাদ্য সংকট তৈরি হয়। এবং যুদ্ধের কারণে অসংখ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

ফিজিশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস গবেষক দলের পরিচালক ড. হোমার ভেন্টার্স বলেন, হুতি নিয়ন্ত্রিত বিদ্রোহী এলাকার হাসপাতাল, ক্লিনিক ও পয়নিষ্কাশ ব্যবস্থায় সৌদি জোট বিমাল হামলা চালিয়েছে। এমনকি আরব বিশ্বের অত্যন্ত দরিদ্র এই অঞ্চলের মানুষগুলো বাঁচার জন্য ওষুধ পর্যন্ত পাচ্ছে না।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) মতে, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ইয়েমেনের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৬০টি হামলা চালানো হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এখানে প্রায় ৬০০ ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চল সাদাহর ৩৭ ভাগ আর ২৮ ভাগ রাজধানী সানার চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

বিমান হামলা বেড়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের স্মরণার্থী কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) অধীন ইয়েমেনের প্রটেকশন ক্লাস্টার বলছে, ২০১৬ সালের যে বিমাল হামলা হয়েছে, এর চেয়ে বেশি হয়েছে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫,৬৭৬টি বিমান হামলা হয়, যেখানে গত বছরে হয় তিন হাজার ৯৩৬টি হামলা।

ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ মারা যায়। গৃহহীন হয় তিন মিলিয়নের বেশি মানুষ। তবে এখনো সেখানে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement