চলুন যাই কম খরচে শতবর্ষী মুন্সীবাড়ি

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৩

রাজবাড়ি হউক আর জমিদার বাড়ি হউক না কেন ভ্রমণ পিপাসুদের এতে আগ্রহের কমতি নেই। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকে ভাবেন খরচের কথা। হাতে সময় থাকলে আপনিও আপনার পরিবারসহ কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের উলিপুরের ধরনিবাড়ি ইউনিয়নের মুন্সীবাড়ি থেকে। এই মুন্সীবাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য আপনাকে যেমন করবে বিমোহিত তেমনি এ এলাকার প্রাকৃতি পরিবেশ রাখবে আপনাকে সজীব। আগে বলে রাখা ভালো মুন্সীবাড়িটি ৩০ একর জমির মাঝে অবস্থিত।

মুন্সীবাড়ির সংক্ষিপ্ত হতিহাস :

কাসিম বাজার এস্টেটের সপ্তম জমিদার ছিলেন কৃষ্ণনাথ নন্দী ও তাঁর স্ত্রী মহিয়সী মহারানি স্বর্ণময়ী। ১৮৪৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজস্ব ভবনে আত্মহত্যা করেন কৃষ্ণনাথ নন্দী । এরপর তাঁর স্ত্রী মহারানি স্বর্ণময়ী কাসিমবাজার এস্টেটের জমিদার হন। তার অধীনে মুনসেফের চাকরি করতেন বিনোদী লাল। বিনোদী লাল বার্ষিক ১০০ টাকায় ধরনিবাড়ি এস্টেটের জোতদারি ভোগ করতেন। বর্তমান কালের সাক্ষী আজকের এই মুন্সীবাড়িটি নির্মাণ করেন বিনোদী লালের পালকপুত্র শ্রী ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী আঠারো শতকে ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী ১৯৬০ সালে মারা যান। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তবে তাঁর স্ত্রী আশলতা মুন্সীর বিহারীলাল নামে একজন পালকপুত্র ছিল। বিহারী লাল ছিলেন ভবঘুরে, মাতাল এবং নির্লোভ ব্যক্তি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাইফুল হক যিনি তৎকালীন কোনো একটি এনজিও অফিসে চাকরি সূত্রে মুন্সীবাড়িতে থাকতেন। তবে বর্তমানে মুন্সীবাড়িটি ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

যেভাবে যাবেন

রাজধানীর আসাদগেট, কল্যাণপুর অথবা গাবতলী থেকে যেকোনো কুড়িগ্রামগামী বাসে করে প্রথমে আপনাকে কুড়িগ্রাম যেতে হবে । এসি বাসের টিকেটের দাম পড়বে ৮০০ টাকা আর নন এসি বাসের ক্ষেত্রে টিকিটের দাম পড়বে ৫৫০ টাকা। ভালো বাসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হক স্পেশাল, নাবিল, হানিফ, এস এন ও এনা পরিবহন। কুড়িগ্রামে বেশ কিছু ভালো থাকার হোটেল আছে, হোটেল অর্ণব প্যালেস, হোটেল ডিকে, হোটেল মেহেদি সেখানে আপনি সকালে রেস্ট নিতে পারবেন। তবে আপনাকে সকালের নাস্তা হোটেলের বাহিরে আলাদা করে সেরে নিতে হবে। এরপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অথবা জি এস এ করে আপনাকে যেতে হবে উলিপুর। উলিপুর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিলেই আপনি পাবেন শতবর্ষী পুরোনো বাড়ি মুন্সীবাড়ি।

কোথায় খাবেন

খাবারের জন্য কুড়িগ্রাম ও উলিপুরে রয়েছে একাধিক হোটেল তবে কুড়িগ্রামের যেসব হোটেল রযেছে তার মধ্যে দুপুরের খাবারের জন্য কাপড় বাজার এলাকার বগুড়া দধি ঘর, নান্না বিরিয়ানী, এশিয়া হোটেল অন্যতম। আর দামে খুব সস্তা। আপনি চাইলে উলিপুরের বিখ্যাত রসমালাইয়ের স্বাদও নিতে পারেন।

সতর্কতা :

১) স্থাপনার মূল অংশে নাম লিখবেন না।

২) দূরের পথে সঙ্গে শুকনা খাবার নিতে পারেন।

৩) স্থাপনার ছাদে ওঠার চেষ্টা করবেন না।