মোসাদ্দেকের আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ

১৮ মে ২০১৯, ১২:২৫ | আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ১২:৩৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ফাইনাল ম্যাচের বাংলাদেশ একাদশেই থাকার কথা ছিল না মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড় মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশ্রাম দেওয়ায়। সেই ম্যাচে ব্যাট করারই সুযোগ পাননি। তবে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ইনজুরিতে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে ফাইনালে সাকিব মাঠে না নামায় বিকল্প স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে ফাইনালের একাদশে ঢুকে যান মোসাদ্দেক। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগটা পেয়ে এমন এক ইতিহাস গড়বেন, সেটা সম্ভবত নিজেও ভাবতে পারেননি ডানহাতি এই অলরাউন্ডার।    

বৃষ্টির বাধার পর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালটা হয়ে যায় ২৪ ওভারের ম্যাচ। বৃষ্টির আগে ২০ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাদবাকি চার ওভারে করতে পারল আর ২১ রান। ১৫২ রানে ক্যারিবীয়দের ইনিংসটা থামার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের অনেকেই বুঝতে পারেননি লক্ষ্যটা কত কঠিন হতে যাচ্ছে। জেসন হোল্ডারের দল ১৫২ রান করলেও বৃষ্টি আইনের কারণে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। তবে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার শুরু করেন ঝড়ের গতিতে।

বাংলাদেশ ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তামিমের আউটের পর সাব্বিরও বিদায় নেন। মাঝখানে দারুণ একটা জুটির পর সৌম্য ও মুশফিক দুজনই বিদায় নেন। ইনিংসের ষোড়শ ওভারে দলীয় ১৪৩ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মিঠুন আউট হলে শঙ্কার একটা কালো মেঘ দেখা যায় বাংলাদেশ শিবিরে। উইকেটে তখন ম্যাচ জেতানোর অভিজ্ঞতা থাকা একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ভরসা হয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।     

একপর্যায়ে বল আর রানের ব্যবধানটা বেড়ে যায় অনেকটাই, ২৪ বলে ৩৯ রানের প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের। তবে ইতিহাস গড়ার ম্যাচে পার্শ্বনায়ক হয়ে থাকতে চাননি মোসাদ্দেক হোসেন। ডানহাতি এই অলরাউন্ডারকে কেন বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তাই সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের প্রথম ফাইনাল জয়ের ম্যাচটাকেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার মোক্ষম উপলক্ষ বানিয়ে ফেলেন মোসাদ্দেক।          

মাত্র এক ওভারে ম্যাচটাকে বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন মোসাদ্দেক। বাঁহাতি স্পিনার ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের করা ২২তম ওভারে ২৫ রান নিয়ে জয়টাকে হাতছোঁয়া দূরত্বে নিয়ে আসেন এই ব্যাটসম্যান। সেই ওভারেই মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটাও নিজের করে নেন এই অলরাউন্ডার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটি গড়ার পথে ২৪ বলে ৫২ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাত বল বাকি থাকতেই কঠিন লক্ষ্যটাকে তাড়া করে পাঁচ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। আর অনবদ্য নৈপুণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ার সবচেয়ে বড় নায় হয়ে যান মোসাদ্দেক।  

ম্যাচ জেতার পর সংবাদমাধ্যমকে নিজের অনুভূতি জানান মোসাদ্দেক হোসেন। জানতেন, ম্যাচ জেতাটা কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। তাই কখনোই বিশ্বাস হারাননি। আর মাঠে নামার আগে অধিনায়ক মাশরাফির অনুপ্রেরণা তো ছিলই। দলীয় অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞ মোসাদ্দেক তাই বলেন, ‘উইকেটে যাওয়ার আগে মাশরাফি ভাই বলছিলেন, সৈকত তুই পারবি। নিজের স্বাভাভিক খেলাটা খেলে ম্যাচটা শেষ করে আয়।’