Beta

‘এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে’

১৮ মে ২০১৯, ১০:৪০ | আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ১০:৪১

স্পোর্টস ডেস্ক

দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের একেবারে গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। নিজের অসাধারণ নেতৃত্বগুণ আর হার না মানা মানসিকতা দিয়ে সাধারণ মানের দল থেকে বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন লড়াকু এক দলে। ক্রিকেট মাঠে অনেক জয়ের পাশাপাশি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার এবং দেশের অগণিত মানুষের ভালোবাসা। এমনকি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা নড়াইল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য। কিন্তু একটা অপূর্ণতা যেন থেকেই যাচ্ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠলেও এর আগে কখনও কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতা হয়ে ওঠেনি মাশরাফির।

একবার-দুইবার নয়, মোট ছয়বার চেষ্টা করেও শিরোপার সাফল্য আসেনি আগে। বারবার ফাইনাল ম্যাচে হারের হতাশায় নুয়ে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। আগের ছয় ফাইনালের তিনটিতেই অধিনায়ক হিসেবে দলকে হারতে দেখেছেন। তবে সংখ্যা হিসেবে ‘সাত’কে সৌভাগ্য হিসেবে দেখা হয়। তাই সপ্তম ফাইনালে আশায় বুক বেঁধেছিল দেশবাসী। ত্রিদেশীয় সিরিজে মাশরাফির দল খেলেছেও দুর্দান্ত ক্রিকেট। শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাই ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল টাইগাররা।

তবে এবারের ফাইনালটাও ছিল নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চে ভরপুর। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঝোড়ো শুরুর পর বৃষ্টির বাধা। এরপর ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মের কল্যাণে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচজয়ের জন্য দুরূহ লক্ষ্য নির্ধারণ। রান তাড়া করতে নেমে ক্ষণে-ক্ষণে ম্যাচের রঙ বদলে যাওয়া আর আর আগের ফাইনালগুলো হারের স্মৃতি, সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচটা। তবে শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক হোসেনের অবিশ্বাস্য এক ইনিংসের বদৌলতে সপ্তম ফাইনালে এসে প্রথম শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।     

এই শিরোপা যেন দীর্ঘদিন ধরে বুকের উপর চেপে থাকা পাথর নামিয়ে দিয়েছে। ম্যাচশেষে কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে দলীয় অধিনায়ক মাশরাফির দীর্ঘ আর আবেগময় এক আলিঙ্গনই বলে দেয়, এই জয়ের গুরুত্ব কী। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘আমরা আগের ছয়বার ফাইনাল খেলেও পারিনি। অবশেষে এবার সফল হলাম। অবশ্যই এটা দারুণ এক অনুভূতি, অসাধারণ লাগছে। আমার দলের সবাই খুবই খুশি।’   

দুর্দান্ত জয়টাকে দলীয় সমন্বয়ের ফল হিসেবে আখ্যা দেন অধিনায়ক মাশরাফি। জয়ের কৃতিত্ব দলের সব সদস্যকে ভাগ করে দেন টাইগার অধিনায়ক। মাত্র ২৪ ওভারে ২১০ রান তাড়া করাটা সহজ ছিল না মোটেও। দারুণ শুরুর পর নিয়মিত উইকেট পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি দলের কেউ। তাই শিরোপা জয়ের কৃতিত্বে সবাইকে অংশীদার করে মাশরাফি বলেন, ‘আজকের এ জয়টা পুরোপুরি টিমওয়ার্ক। শুরুতে দারুণ জুটি গড়েছিল তামিম এবং সৌম্য। যেমন দরকার ছিল তেমন ব্যাটিং করল সৌম্য। মাঝে মুশফিকও রানের চাকা সচল রেখেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে আউট হলেও মোসাদ্দেক এবং মাহমুদউল্লাহ দুর্দান্ত ফিনিশিং দিয়েছে। সত্যিই দারুণ এক দলীয় পারফরম্যান্স ছিল এটা।’

আগের ছয়বার ব্যর্থ হলেও সপ্তমবারের চেষ্টায় শিরোপা সাফল্য পেল বাংলাদেশ। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন থেকে  নতুন পথে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। প্রথমবারের মতো ফাইনালের গেরো খোলার পর উচ্ছ্বসিত মাশরাফি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি বলব, এই জয়ে নতুন পথের যাত্রা শুরু হলো আমাদের। এতদিন ধরে বারবার আটকে যেতে হয়েছিল ফাইনালে। শেষ পর্যন্ত আজকে শিরোপা জিততে পারলাম। আশা করি, এই ফাইনাল ম্যাচের এই জয়যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

Advertisement