Beta

মাশরাফিই দায়িত্বটা বুঝিয়ে দিয়েছেন সৈকতকে

১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৪৩

হিমু আক্তার

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর মতো দলের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। দায়িত্ব সামলেই ব্যাটে-বলে ছন্দ ধরে রেখেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। যেই ছন্দ তাঁকে জায়গা করে দিয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। দীর্ঘদিন পর নিজের এই ফেরাটাকে বিশেষভাবে দেখছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ডিপিএল চলাকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে নতুনভাবে বুঝে নিয়েছেন নিজের দায়িত্বটা। বিশ্বকাপের বিমানে চড়ার আগে আপাতত সেই দায়িত্বটাকেই ফোকাসে রাখছেন তিনি। এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে নিজের ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এমনটাই জানালেন তিনি।  

অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলের নিয়মিত একজন হয়ে ওঠেন সৈকত। হঠাৎ চোখের সমস্যা সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। সঙ্গে যোগ হয় স্ত্রী করা মামলার বিতর্ক। সবকিছু মিলিয়ে গত মাস-খানেক খুব বাজে সময় কাটছিল তাঁর। নানা সমস্যার মাঝেও খেলেছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরর্ম করতে পারেননি। দিনে দিনে কঠিন হয়ে ওঠে জাতীয় দলে ফেরা। বাস্তবতা কঠিন হয়ে ওঠলেও হাল ছাড়েননি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নেমে আসা অন্ধকার সরিয়ে আলোর খোঁজে বেছে নেন ঢাকা লিগ। লিগের প্রথম পর্বে ব্যাট হাতে ৫৩.৫০ গড়ে ৪২৮ রান করেন, বল হাতেও নেন সাতটি উইকেট। এই সাফল্য তাঁকে খুলে দিয়েছে জাতীয় দলের দরজা।

এনটিভি অনলাইনকে নিজের ফেরার অনুভূতি নিয়ে সৈকত বলেন, ‘এই ফেরা আমার কাছে বিশেষ কিছু। এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এটা ঠিক অনেক দিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেলাম, আমি চাই সবকিছু নতুভাবে শুরু হোক। ‍সে হিসেবে জাতীয় দলে ঢুকেছিলাম এবারও সেভাবেই ফিরতে চাই।’

বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলের  ১৩ জন সদস্য প্রায় আগেই নিশ্চিত ছিল। বাকি একজন অলরাউন্ডার আর পেসার নিয়ে ছিল কৌতূহল। যার কারণে সুযোগ পাওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন সৈকত নিজেও। তিনি বলেন, ‘আসলে ঘুম থেকে ওঠার পর যখন শুনলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়েছি। আমারও একটা ধারণা ছিল হয়তো থাকতেও পারি নাও থাকতে পারি। খুব দ্বিধায় ছিলাম। এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে ৫০/৫০ ধরে রেখেছিলাম। তবে আত্মবিশ্বাস হারাইনি। বারবার মনে হয়েছে যে সুযোগ পাব।’

২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় জয়ে সাকিব আল হাসান-মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ইনিংসের পাশাপাশি সৈকতের তিন উইকেটও বিশেষ স্মরণীয়। ব্যাট হাতেও অধিনায়কের আস্থা রেখেছিলেন তিনি। আবারও সেই ইংল্যান্ডের মাটিতে দেশের হয়ে খেলবেন। তবে আগেরবার নতুন থাকলেও ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে এবার নিজের রোলটা জানা সৈকতের, ‘আসলে প্রতিটি টুর্নামেন্টকেই আমি ‍গুরুত্ব দেই। শুধু কার্ডিফ নয় পুরো ইংল্যান্ডেই আমার যে অভিজ্ঞতা আমি বলতে চাই ওই কন্ডিশনে আমার রোলটা কি সেটা আমি বুঝেছি। আমি চেষ্টা করবো আমার জায়গা থেকে ভালো কিছু করার। তবে আপাতত বাড়তি কোনো চিন্তা নেই।’

ডিপিএলে মাশরাফির সঙ্গে একই দলে খেলছেন মোসাদ্দেক। গতকাল ম্যাচ শেষে অধিনায়কে বেশ খুশিতেই জড়িয়ে ধরেন মোসাদ্দেক। হয়তো এই খুশির আড়ালে ছিল অধিনায়ক কোনো বার্তা। সে যাই হোক মূলত কথার ফাঁকে অধিনায়ক জাতীয় দলের দায়িত্ব সম্পর্কেই মোসাদ্দেককে অবগত করেছিলেন।

সৈকতও অধিনায়কের উপদেশকেই আপাতত ফোকাসে রাখছেন। তাঁর কথায়, ‘উনি (মাশরাফি) কাল আমাকে এটাই বুঝালেন যে আমার দায়িত্বটা কেমনহবে। কখন আমার কি করা লাগতে পারে। আমার উপর যে দায়িত্ব থাকবে সেই দায়িত্বের উপর ফোকাস রাখতে বলেছেন। আমিও সেসব দিকগুলো নিয়ে ভাবছি। উনার কথাগুলোকে ফোকাসে রাখার চেষ্টা করছি।’

Advertisement