Beta

কলকাতায় পালিত হলো বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী

১৫ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৪

কলকাতা সংবাদদাতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষে স্থাপিত তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের উপ-কমিশনারসহ অন্যরা। ছবি : এনটিভি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের আয়োজনে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। সকালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। এরপর সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবাহী কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ) বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষে স্থাপিত তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারসহ অন্যরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল, কাউন্সেলর বিএম জামাল হোসেন, বাংলাদেশের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজসেবী অ্যারোমা দত্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান প্রমুখ।

এ ছাড়াও বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের (কলকাতা শাখা) ও বিমান বাংলাদেশের তরফেও এদিন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কলকাতার বেকার হোস্টেলের ২৩ এবং ২৪ নম্বর যে ঘর দুটিতে বঙ্গবন্ধু থাকতেন সেই ঘর দুটিও ঘুরে দেখেন মিশনের কর্মকর্তাসহ অন্যরা। সকাল ১০টা থেকে উপ-হাইকমিশনের সভাঘরে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠতম রাজনৈতিক, মানবিক ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন সংসদ সদস্য ও সমাজসেবী অ্যারোমা দত্ত। তিনি বলেন, বর্বর হানাদার ও বিশ্বাসঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে ভেবেছিল তাঁকে শেষ করে দিলেই হয়তো মুক্তিযুদ্ধও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এভাবে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয় না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বিশ্বাসকে শেষ করা যায় না। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছিলেন, তাঁর সুযোগ্যা কন্যা শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের সেরার তালিকায় নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে কতটা সাধারণ ছিলেন তা বেকার হোস্টেলে এলেই বোঝা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে তিনি ধীরে ধীরে অসাধারণ হয়ে উঠেছেন। সাধারণের স্বপ্নকে তিনি বুকে ধারণ করে সারা জাতির মনে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সাহসী বীর, তিনি মৃত্যুকে ভয় পেতেন না। বিশ্বাসঘাতকরা তাঁকে আমাদের মধ্যে থেকে সরিয়ে নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তিনি আমাদের নিশ্বাসে, প্রশ্বাসেই বেঁচে আছেন।’

বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টায় কলকাতার কলামন্দিরের কলাকুঞ্জ মিলনায়তনে ‘ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এন্ড বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

Advertisement