Beta

তিন লাখ টাকা ধার করে মালয়েশিয়া গিয়ে লাশ হলেন আলামিন

০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০১ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০৯

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশের চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আলামিন। ছবি : সংগৃহীত

স্বভাবসুলভ নম্র ও ভদ্র চেহারা। বাড়ির সবার কাছে ছিলেন প্রিয়পাত্র। মিষ্টি মুখের চাহনিতে সহজেই যে কারো মনে জায়গা করে নিতেন। বড় ছেলে হিসেবে  অভাবের সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন বুকে নিয়ে আলামিন আসেন মালয়েশিয়ায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তাঁর।

রোববার রাতে ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাগল গ্রামের মাওলানা আমির হোসেনের বড় ছেলে আলামিনও রয়েছেন।

আমির হোসেনের তিন ছেলের মধ্যে আলামিন সবার বড়। সাত মাস আগে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আলামিন জীবিকার সন্ধানে কুয়ালালামপুরে আসেন।

দুর্ঘটনার পর সোমবার সকালে আলামিনের মৃত্যুসংবাদ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। আশপাশের প্রতিবেশিরা তাদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বচ্ছলতার জন্য বিভিন্নজনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার দেনা করে আলামিনকে বিদেশ পাঠান তারা। এমন পরিস্থিতিতে আলামিনের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের ওপর যেনো আকাশ ভেঙে পড়ে।

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আলামিন মালয়েশিয়া আসেন। এর মধ্যে বাড়িতে বেশ কিছু টাকাও পাঠিয়েছেন আলামিন।

নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আলামিনকে তোমরা নিয়ে আসো।’

প্রতিবেশী মিলন গাজী বলেন, তাঁর ছেলে রাসেলের সঙ্গে আলামিন মালয়েশিয়া যান।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আলামিনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়কে বাংলাদেশিসহ আরো কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ১১ জন নিহত হন। আরো বেশ কয়েকজন আহত হন।

Advertisement