প্রতিক্রিয়া : বিউটিদের মৃত্যুই কি মুক্তি?

২৯ মার্চ ২০১৮, ১৩:৫২ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ১৪:০৩

আলী ইউনুস হৃদয়

সোহাগী জাহান তনুর নামটা হয়তো ভুলে গেছি। ২০১৬ সালের মার্চে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। কিন্তু তনুরই মতো শত শত নারী ধর্ষিত হয়েছে। শুধু ধর্ষিত হয়নি, হত্যাকাণ্ডেরও শিকার হয়েছে ধর্ষকদের হাতে। ধর্ষণ মামলায় কয়েকজন ধর্ষক আসামির বিচার হয়েছে, আমরা দেখেছি। একই সঙ্গে ধর্ষিতার পরিবার বিচার চাওয়ায় হামলার শিকার হয়েছে, সেটাও দেখেছি। প্রতিদিনই সংবাদপত্রের পাতায় কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় হরহামেশা দেখছি এসব সংবাদ। সবশেষ গণমাধ্যমের সাহায্যে জানতে পারি, ‘ধর্ষণের মামলা তুলে না নেওয়ায় তরুণীকে হত্যা’। 

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায়। গত ১৭ মার্চ শনিবার উপজেলার পুরাইকলা বাজারসংলগ্ন হাওর থেকে তরুণী বিউটি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বিউটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। এ ঘটনায় বিউটির বাবা সায়েদ আলী ধর্ষক বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলমচানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর বিউটির পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে ১৬ মার্চ শুক্রবার বিউটিকে নানার বাড়ি গুণীপুর গ্রামে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ধর্ষক বাবুলসহ তার লোকজন বিউটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে রাখে।

মহান স্বাধীনতার মাসে হাওরের সবুজ ঘাসের বুকে লাল রঙের জামা পরিহিত বিউটির ক্ষতবিক্ষত লাশ সকলে দেখেছে। যেন এক টুকরো নিথর ‘বাংলাদেশ’ পড়ে আছে। পাশে লাশ দেখতে আসা উৎসুক জনতা নিথর ‘বাংলাদেশ’কে অবাক চোখে দেখছে। ঠিক তখনই পুরো দেশবাসী স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ব্যস্ত। অন্যদিকে বিউটির পরিবার স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে বিচার চাওয়ায় প্রভাবশালীদের ক্ষমতার হাতে মেয়েকে হারিয়ে নির্বাক।

বিউটি হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ‘খুনি’ ধর্ষক বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে বাবুলের মা কলমচান ও ইসমাইল নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে হাওরে পড়ে থাকা বিউটির লাশ ‘এক টুকরো নিথর বাংলাদেশ’র প্রতিচ্ছবি হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় নিহত বিউটি আক্তারের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা বাড়ছে। যদিও এই ক্ষোভ, হতাশার ভাষা কোনো মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না।

মেয়ের খুনিদের বিচারের দাবি নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে। সে কান্নাও কারোর মনকে টলাতে পারছে না। কারণ এই সমাজ-রাষ্ট্রে মানববন্ধন, মিছিল সমাবেশ করে বিচার পাওয়া যায় না। আবার হত্যাকাণ্ডের বছর দুয়েক পেরিয়ে গেলেও তনুর মতো শত শত বোনের ধর্ষণ কিংবা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রাপ্তির দাবি দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে যায়। তাহলে বিউটিদের মৃতুই কি মুক্তি?

লেখক : শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।