Beta

তারকার বিচ্ছেদ

শাকিব-অপুর সন্তান জয়ের কী হবে?

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৪৭

মুহাম্মদ ফরিদ হাসান

‘তারকাদের সংসার টিকে না’ বলে প্রায় প্রবাদতুল্য একটি কথা প্রচলিত আছে। শাকিব-অপুর বিবাহবিচ্ছেদে আরো একবার সেই কথাটি সত্য বলে প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। শাকিব-অপুর বিয়ে নিয়ে যে নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল, সে নাটকীয়তার রেশ কাটতে না কাটতেই শাকিবের ডিভোর্স লেটার পাঠানোর ঘটনাটি ঘটল। ৪ ডিসেম্বরের খবর অনুযায়ী, শাকিব খান অপু বিশ্বাসকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন। তবে সেটি এখনো অপু বিশ্বাসের বাসায় পৌঁছেনি। শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ নিয়ে তাঁদের ভক্তরা আলোচনা-সমালোচনা করবেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। সেসব গণ্ডি পেরিয়ে আমরা তাঁদের সন্তান আব্রাম খান জয়ের দিকে দৃষ্টি দিতে চাই।


সাধারণ মানুষের যখন সংসার ভাঙনের মুখে পড়ে, তখন তাঁরা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুনভাবে আবার পথচলা শুরু করেন। আবার অনেক নারী-পুরুষ সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে বাঁচাতে কোনোভাবেই বিবাহবিচ্ছেদ চান না। কেননা, বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তান মা অথবা বাবা, যাঁর কাছেই থাকুক না কেন—তাকে নির্মম অবহেলা, লাঞ্ছনা ও গঞ্জনা সহ্য করেই বড় হতে হয়। তাই মানবিক মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও সন্তানকে বাবা অথবা মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হতে দিতে চান না। সন্তানের টানেই মান-অভিমান ভুলে নতুন করে সংসার শুরু করেন। এমন ফিরে আসার ঘটনা ও উদাহরণ আমাদের সমাজে অজস্র রয়েছে। যখন শাকিব-অপুর বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল, তখন সচেতন মানুষ মাত্রই ভেবেছিলেন, ফুটফুটে শিশু জয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁরা একসঙ্গে থাকবেন। সে সম্ভাবনাটুকু গতকাল পর্যন্ত উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু ডিভোর্স লেটার পাঠানোর সংবাদে জয়ের ভবিষ্যৎ যে শঙ্কায় পড়েছে, তা আর বলার প্রয়োজন পড়ে না। 


কয়েক মাস আগে যখন শাকিব-অপুর দ্বন্দ্ব সাময়িক মিটে গিয়েছিল, তখন শাকিব জানিয়েছিলেন, জয়কে তিনি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তাকে তাঁর মতো করে বেড়ে উঠতে দেবেন। অন্যদিকে অপু বিশ্বাস বলেছিলেন, ছেলের ভবিষ্যতের জন্য যা করা প্রয়োজন, তিনি তা-ই করবেন। এখন যদি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, তখন কি তাঁরা তাঁদের কথা রাখবেন? তার চেয়ে বড় বিষয় হলো : তাঁরা কি তাঁদের কথা রাখার সুযোগ পাবেন? কেননা, দেশের আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পর মা অথবা বাবার কাছে সন্তান থাকার সুযোগ পায়। সে হিসেবে জয় কি কখনো তার বাবা-মা উভয়ের স্বাভাবিক সান্নিধ্য পাবে? শাকিব তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি সন্তানের দায়িত্ব নেবেন। যদি তা-ই হয়, তবে কি আব্রাম মায়ের স্নেহ, আদর থেকে বঞ্চিত হবে না? শাকিব-অপুর বিচ্ছেদে দুজনের যে ক্ষতি হবে, তাঁরা সেটি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়। জীবনের প্রয়োজনে, স্বাভাবিকভাবেই শাকিব, অপু—দুজনেই অন্য কোনো না কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে যাবেন। তাঁদের নতুন সংসার হবে। কিন্তু জয় কি সেই সংসারে তার বাবা-মাকে ফিরে পাবে? নতুন সংসারে শিশু জয় হয়তো ওভাবে আদৃত হবে না। এমনও কি হতে পারে না, বাস্তবিকতার অভিঘাতে তার স্থান হবে কোনো চাইল্ডহোমে? বাবা-মা থেকেও তাঁদের সান্নিধ্যবিহীন সে পরিণত হবে অবহেলিত শিশুতে। তাই সার্বিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে, শাকিব-অপুর বিচ্ছেদে শিশু আব্রাম জয়ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


যেকোনো বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ সন্তানের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে কেবল সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যই ভেঙে পড়ে না, মনোবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ছেলেমেয়েরা প্রবলভাবে বিষণ্ণতা ও হীনমন্যতায় ভোগে। সারা জীবন এর প্রভাব তার জীবনে পড়ে। সমাজ ও রাষ্ট্রের উঁচু পর্যায়ে থেকেও, অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা পেয়েও শাকিব-অপু তাঁদের ছেলের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারবেন না—এটি খুব দুঃখজনক। যদিও বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রশ্নটি নতুন নয়; বরং চোখ মেললেই এমন সন্তানের দেখা মিলবে। 


তাদের অসহায়ত্ব আমরা উপলব্ধি করতে পারি ঠিকই, কিন্তু তাদের জন্য আমাদের করার তেমন কিছু থাকে না। কেননা, পিতা-মাতার সান্নিধ্য, স্নেহ, ভালোবাসার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কিছুর তুলনা চলে না। সে জন্যই কোনো বিচ্ছেদের মুখোমুখি আমরা সহজে হতে চাই না। যেকোনো উপায়ে চাই সংসারটি টিকে থাকুক, অটুট থাকুক সম্পর্ক। আমরা প্রত্যাশা করি, শাকিব-অপু মিলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যাতে জয়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিঘ্নিত না হয়। দুজনেরই মনে রাখা উচিত, তাঁদের মধ্যকার মনোমালিন্য, অমিল, সমস্যাগুলোর জন্যে শিশু জয় দায়ী নয়। বরং জয়কে অবুঝ অবস্থায় অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিক্ষেপ করার জন্য তাঁরাই সর্বাংশে দায়ী হবেন। জয়ের বেড়ে ওঠা যাতে নিষ্কণ্টক ও স্বাভাবিক হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখা কেবল শাকিব-অপুর দায়িত্বই নয়, সেটি তাদের মনুষ্যত্বেরও প্রকাশ হবে। আর তাঁরা অসংখ্য মানুষের আইডল। 
তবে আশার কথা হলো, এখনো সময় পার হয়ে যায়নি। শাকিব-অপুর ফিরে আসার পথ এখনো খোলা রয়েছে। কেননা, আইন অনুযায়ী তালাকনামা পাঠালেও তা কার্যকর হতে তিন মাস সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে তাঁদের মধ্যকার বিবাদ সমঝোতা করার সুযোগ রয়েছে। সেই বিবেচনায় শাকিব ও অপু এখনো পারেন আব্রাম খান জয়কে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে। যদি এমনটি হয়, তবে নিঃসন্দেহে এ তারকা দম্পতি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।


লেখক : প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক, বাঁক।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement