Beta

চাকরির ইন্টারভিউতে বাজিমাত করার ৮ উপায়

০৪ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩১

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিষ্ঠান ছোট হোক বা বড়, নিয়োগ পদ্ধতি দ্রুত বদলাচ্ছে সবখানেই। তবে যেকোনো চাকরির জন্য মুখোমুখি বা সরাসরি সাক্ষাৎকারই (ইন্টারভিউ) এখনো সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি।

বড় বড় কোম্পানির নিয়োগকর্তারা মনে করেন, যেকোনো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি নির্ভর করে ইন্টারভিউতে আপনি কতটা ভালো করেছেন, তার ওপর।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারভিউতে ভালো করার কয়েকটি উপায় :

গবেষণা করুন

কারা আপনার ইন্টারভিউ নেবেন, তাঁদের পদবি কী—এসব বিষয়ে যতটা সম্ভব আগে থেকেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। যে প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে চাইছেন, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিন। প্রতিষ্ঠানটি কী নিয়ে কাজ করে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, এর স্বত্বাধিকারী কে বা কারা, বছরে তাঁদের আয়-ব্যয় কেমন, প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক অবস্থা কী, প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিযোগী কারা—এসব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ঘেঁটে নোট নিন, নিয়োগকর্তাদের নামগুলো জেনে নিন এবং নিজেই কিছু সম্ভাব্য প্রশ্ন তৈরি করুন।

ইন্টারভিউর কোনো পর্যায়ে আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে এমনভাবে প্রশ্ন করুন, যাতে নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারেন, ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি বেশ ভালোভাবে জানেন।

এতে আপনি সহজেই তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন আর আত্মবিশ্বাসীও থাকবেন।

অনুশীলনের বিকল্প নেই

অনুশীলনই একজন মানুষকে সাফল্যের কাছে পৌঁছে দেয়। তাই সম্ভাব্য কী ধরনের প্রশ্ন আপনাকে করা হতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং উত্তরগুলো আগেই ঠিক করে রাখুন।

বেশিরভাগ চাকরির ইন্টারভিউতে কিছু সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। ইন্টারনেটে এমন হাজারো ওয়েবসাইট আছে, যেখানে ইন্টারভিউতে সাধারণত কেমন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, সেগুলোর নমুনা উত্তরসহ পাওয়া যায়।

তবে আপনার উত্তরগুলো গৎবাঁধা থিওরির মতো না হয়ে গল্পের মতো হওয়া ভালো। চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, সেগুলো যে আপনার আছে, সেটি গল্পের ছলে বলুন। ‘আমি এসব কাজ পারি’—এভাবে না বলে কাজের উদাহরণ দিতে পারেন।

কর্মক্ষেত্রে কখন, কোথায়, কীভাবে আপনি আপনার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা প্রশ্নকর্তাদের জানান। এতে আপনার আগের কর্মক্ষেত্রে আপনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, সেটি যেমন বোঝা যাবে, তেমনি যাঁরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তাঁরা বুঝতে পারবেন, নতুন কাজের ক্ষেত্রে আপনি কতখানি যোগ্য।

পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন

‘আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারি’—কথাটি এ ক্ষেত্রে বেশ প্রযোজ্য। বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা ইন্টারভিউ শুরুর মিনিটখানেকের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আপনি যতই ভালো ইন্টারভিউ দিন না কেন, আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে নিয়োগকর্তারা যদি বিরক্ত হন, তাহলে আসলে কোনো লাভ হবে না।

নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সাদা রংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। রঙিন পোশাকের চেয়ে হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। তবে পোশাকের রং যাই হোক, সাদা বা নীল, অবশ্যই তা যেন কুঁচকানো না হয়। ইন্টারভিউর পোশাক হতে হবে পরিষ্কার ও পরিপাটি।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করুন

চাকরির ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা কিন্তু শুরুতেই আপনি কীভাবে ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করছেন, তার ধরন দেখেও অনেক কিছু বিবেচনা করেন। একজন ইতিবাচক, আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার ব্যক্তি কখনোই কাঁপা কাঁপা, নিস্তেজ গলায় সবাইকে সম্ভাষণ জানাবেন না।

আর ইন্টারভিউর সময় যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, অবশ্যই তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন। অন্যদিকে তাকানো বা নিচের দিকে তাকিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলাটা এক ধরনের অভদ্রতা।

হাসিমুখ ধরে রাখুন

হাসিমুখ হলো একটি জনস্বীকৃত ভঙ্গি, যা দিয়ে আপনি সহজেই বোঝাতে পারেন—‘আমি মনখোলা মানুষ এবং আমি এখানে আসতে পেরে খুশি।’ তাই ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মুখে হাসি ধরে রাখুন। হাসিমুখে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিন।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজেরর (শারীরিক অঙ্গভঙ্গি) ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ—ইন্টারভিউর সময় কখনো কাত হয়ে বসবেন না। সব সময় সোজা হয়ে বসুন।

নিজের ওপর নিন্ত্রণে রাখুন

আপনি হয়তো সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই ইন্টারভিউ দিতে গেলেন, কিন্তু নার্ভাসনেসের কারণে ইন্টারভিউর সময় সবকিছুই ভুলে গেলেন। যদি আপনার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে জোরে কয়েকবার শ্বাস নিন। মনে মনে ছক কষে নিন, ভেতরে গেলে কী করবেন।

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বলেন, ইন্টারভিউর সময় ঘাবড়ে না গিয়ে, আপনার তৈরি করা উত্তরগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে ইন্টারভিউ ভালো হয়।

ক্যারিশমাটিক হোন

মুখোমুখি সাক্ষাৎকার কিন্তু নিজেকে কারো কাছে উপস্থাপন করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। এখানে আপনি আরেকজনকে নিজের ব্যাপারে ভালো ধারণা দেওয়ার সুযোগ পান, বলতে পারেন।

তাই ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে ভাবুন, আপনার সবচেয়ে স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য কোনটি? আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি নিয়ে ভালো করে ভাবুন। ভেবে দেখুন, কোন কোন কারণে আপনি অন্যদের চেয়ে আলাদা।

সেইসঙ্গে কাজের বিষয়ে জোর দিতে ভুলবেন না। আপনি কেন কাজটি চান, আপনি কাজটি কতটা পছন্দ করেন, এ কাজটি পেলে আপনি কতটা উপকৃত হবেন—এ বিষয়গুলো বারবার বলবেন। আপনার এ কথাগুলো সাক্ষাৎকার গ্রহীতাদের (ইন্টারভিউয়ার) মতামতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হাল ছাড়বেন না

ইন্টারভিউয়ারদের প্রশ্ন শুনে যদি আপনার মনে হয়, আপনি অথৈ সাগরে পড়েছেন, কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না, এই চাকরি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই আর নেই, তবুও ঘাবড়ে যাবেন না।

আপনার মনে হতেই পারে যে, ইন্টারভিউয়াররা আপনাকে পছন্দ করছে না, কিংবা এ কাজ পাওয়ার কোনো আশা নেই, তবু ইন্টারভিউ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না। কে জানে হয়তো পরের প্রশ্নটির উত্তরই আপনি খুব ভালোভাবে দিতে পারবেন। তাই ঘাবড়ে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্ন মোকাবিলা করুন।

Advertisement