Beta

উজ্জ্বলার পরিচালনায় এভারি ডেনিসনে গ্রুমিং সেশন

১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৭

ফিচার ডেস্ক

উজ্জ্বলা লার্নিং সেন্টার নিয়মিতভাবে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রুমিং সেশন পরিচালনা করছে। দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক ও মানসিকভাবে  সুস্থ থাকতে এবং পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে উজ্জ্বলা পরিচালিত এই গ্রুমিং।

গত বছরের ডিসেম্বরের ২২ এবং ২৯ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এভারি ডেনিসনে দুদিনের গ্রুমিং সেশন পরিচালনা করছেন উজ্জ্বলার বিশেষজ্ঞ রিসোর্স পারসনরা। এই সেশনে অংশ নেন এভারি ডেনিসনের ৩৫ জন নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রফেশানাল ডেভেলপমেন্ট, পারসোনাল বিউটি অ্যান্ড স্টাইলিং এবং পারসোনালিটি অ্যান্ড বিহেভিয়ার ম্যানেজমেন্ট।

তিনজন বিশেষজ্ঞ প্রথমদিনের সেশন পরিচালনা করেন। দিন শুরু হয় উজ্জ্বলার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট করপোরেট ব্যক্তিত্ব আদিত্য সোমের প্রফেশানাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস দিয়ে। তিনি তত্ত্ব ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার সঙ্গে  নিজেদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা চমৎকার ভাবে তুলে ধরেন। এটা অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে। এরপর পারসোনাল বিউটি অ্যান্ড স্টাইলিং নিয়ে উপভোগ্য আলোচনা করেন বিশিষ্ট সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। কর্মক্ষেত্রে এবং এর বাইরে নিজেরে সুন্দর করে উপস্থাপন করার নানা বিষয়, সহজে নিজেকে পরিপাটি করে রাখার বিষয়ে অবগত করেন তিনি। দিন শেষ হয়  পারসোনালিটি অ্যান্ড বিহেভিয়ার ম্যানেজমেন্ট দিয়ে। এ বিষয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ আলোচনক মনজুন নাহার। তিনি জানান ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায়। আচরণ গত সমস্যা দূরীকরণে দেন প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর পরামর্শ।



এই গ্রুমিং সেশনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২৯ ডিসেম্বর। এদিন সেশন দুটো সেশন পরিচালনা করেন মনিরা রহমান এবং তামান্না চৌধুরী। দিন শুরু হয় মনিরা রহমানের মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট দিয়ে। মনোগ্রাহী উপস্থাপনায় মনিরা রহমান বুঝিয়ে দেন মানসিক স্বাস্থ্য ও  এর যত্নের গুরুত্ব; এবং জানান মানসিক চাপমুক্ত থাকার উপায়।  অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেশনে তামান্না চৌধুরী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে তাঁর পরামর্শ দেন।

পাঁচজন বিশেষজ্ঞ পরিচালিত উজ্জ্বলার দুদিনের এই গ্রুমিং শেসনে এভারি ডেনিসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন।

রিসোর্স পারসন

আদিত্য সোম : ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা
শ্রী আদিত্য সোম একজন বিজনেস লিডার। তাঁর রয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা ভূমিকায় বিশ্বের চার মহাদেশের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নানাবিধ ভূমিকায় কাজের অভিজ্ঞতা। অবশ্য তিনি বিশেষজ্ঞ ভোগ্যপণ্য শিল্পে; কারণ এই শিল্পখাতে তিনি অতিবাহিত করেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। সামলেছেন ব্যবসা। দিয়েছেন নেতৃত্ব। সবশেষ তিনি ম্যারিকো বাংলাদেশের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১২০০ জনের একটা বড়সড় একটা কর্মীবাহিনীর। তাঁর সময়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার ছিল অন্তত ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্যারশুট অয়েলস, শান্তি আমলা, সাফোলা অয়েল, হেয়ার কোড হেয়ার কালার, লিভন ইত্যাদি ব্র্যান্ডকে সাফল্যের সোপানে উন্নীত করার চেষ্টা করেছেন।

শ্রী আদিত্য সোম এখন নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়াসী। চেষ্টা করছেন নিজের প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে। তিনি অবশ্য উজ্জ্বলার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। উজ্জ্বলা একটি লারনিং সেন্টার। এখানে নারী উদ্যোক্তা ও উন্নয়নশীল খাতের পেশাদারদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিপূরণ শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি তিনি এক ফ্রিল্যান্স পরামর্শকও। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ত্বরাণ্বিত করতে দিয়ে থাকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। এর সঙ্গে তিনি মেন্টর হিসাবে উদ্যোক্তাদের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকাও রাখেন।

আফরোজা পারভীন : পারসোনাল বিউটিফিকেশন (ব্যক্তিগত সৌন্দর্যবর্ধন)
তিনি একজন সুদক্ষ বিউটি ও গ্রুমিং বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তাও বটে। এই শিল্পক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দশক ছাড়িয়েছে। অল্পদিনেই তাঁর সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রেড’ ছড়িয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। বিউটি সার্ভিস ওনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক আর এসএমই ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে বিউটি ও গ্রুমিং খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি। সাপ্তাহিক রেডিও আর টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এখন দেশব্যাপী দারুণ পরিচিত মুখ।  দীর্ঘ পেশাগত জীবনের অর্জন আর সমাজ ও শিল্পে তাঁর অবদানের দরুণ নানভাবে সম্মানিত ও স্বীকৃত হয়েছেন আফরোজা পারভীন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে আইডিএলসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৪, এমজিএইচ গ্রুপের ইন্সপায়ারিং চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ও বেসিসের উইমেন অ্যাট ওয়ার্ক।



মনজুন নাহার : পারসোনালিটি অ্যান্ড বিহেভিয়ার ম্যানেজমেন্ট (ব্যক্তিত্ব ও আচরণ ব্যবস্থাপনা)
পেশাগত জীবনে মনজুন নাহার একজন সমাজবিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের বাথ ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজেও নিয়েছেন সমমানের ডিগ্রি। তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে পেশাগত সামর্থের উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা আর নারীর ক্ষমতায়ন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই টেকসই সমাধান সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করে থাকেন; যা নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। ।

বিগত ২৫ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে সম্পৃক্ত রয়েছেন একটি বৈশ্বিক প্রকল্পের সঙ্গে; যার উদ্দেশ্য হলো নারীর ক্ষমতায়নকে চিহ্নিত ও বিকশিত করা। তিনি পরিচালনা করেছেন অসংখ্য অংশগ্রহণমূলক, নিরীক্ষামূলক এবং সমর্থ উন্নয়নের কর্মশালা, জাতীয় ও আন্তর্জতিক পর্যায়ে পেশাদার ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।
 
মনিরা রহমান: মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপ ব্যবস্থাপনা)
মনিরা রহমান বর্তমানে দি ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক।  টেকসই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি তা প্রদান করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান। এর আগে তিনি কিছুদিন কাজ করেছেন কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বাংলাদেশ-এ। অ্যাসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধ আর এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন (এএসএফ)। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশে এসিড সন্ত্রাস নির্মূলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে এএসএফ; আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি এডিসদগ্ধদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য আইন সংস্কারেও এই প্রতিষ্ঠান চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূলে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবক্তার ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার অ্যাওয়ার্ড ২০০৬, অ্যামেরিকানস ফর ইউএনএফপি অ্যাওয়ার্ড ২০০৯ এবং ওয়ার্ল্ডস চিলড্রেনস প্রাইজ ২০১০সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন মনিরা রহমান।

তামান্না চৌধুরী: হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে মাস্টার্স করার পর তামান্না চৌধুরী ভারত থেকে করেছেন পোস্ট-গ্রাজুয়েশন। এ ছাড়া টানা তিন বছর (২০১৩-২০১৫) ইএসপিএনের কাছ থেকে পেয়েছেন ওয়ার্ল্ড নিউট্রিশন সার্ভে সার্টিফিকেট।

অ্যাপোলো হসপিটালের প্রিন্সিপাল ডায়েটিশিয়ান হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছিলেন প্যাসিফিক হসপিটালের সঙ্গে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোর নিয়মিত অংশগ্রহণকারী তামান্না চৌধুরী প্রায়ই লিখে থাকেন ডেইলি স্টারের লাইফস্টাইল সাময়িকীতে। বাংলাদেশে পুষ্টি বিষয়ে অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানিত করেছেন বাংলাদেশ নাগরিক নাট্য শোভা।

Advertisement