Beta

প্রবীণদের মস্তিষ্কে সমস্যা

১৭ মার্চ ২০১৫, ১১:৫৬

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
পারিবারিক সেবাই পারে এ ধরনের রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। ছবি : মেডিমুন ডটকম

প্রবীণ বয়সে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে যে ধরনের পরিবর্তন আসে, এগুলোকে বলা হয় এট্রফি। এট্রফি হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর থেকে আলঝেইমার রোগ হতে পারে। আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম আরো হ্রাস পায়। সাধারণত ষাটোর্ধ্ব বয়সের লোকদের এ সমস্যা দেখা যায়।

কারণ

বয়স বাড়লে মস্তিষ্কে সমস্যা এমনিতেই হতে পারে। এ ছাড়া মাথায় আঘাত পেলে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে বা বংশগত কারণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

মস্তিষ্কের রোগের লক্ষণ

  • মস্তিষ্কে সমস্যা হলে সচেতন মানুষও শিশুর মতো আচরণ করে। স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন হয়। এর কারণে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন হয়।
  • রোগী রেগে যায়; বিরক্তি ভাব দেখায়।
  • ব্যক্তির ঘুম কম হয়।
  • ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না।
  • প্রস্রাব-পায়খানা করতে সমস্যা হয়।
  • কথাবার্তা বলতে সমস্যা হয়।
  • একটা পর্যায়ে গিয়ে বিছানায় পড়ে যায়।
  • অধিকাংশ সময় রোগী বুঝতে পারে না যে কী ধরনের আচরণ সে করছে।
  • হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো মানসিকতা কাজ করে।

চিকিৎসা

প্রবীণ বয়সে মস্তিষ্কের এ ধরনের রোগ আসলে পুরোপুরি ভালো হয় না। এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। সাধারণত লক্ষণ বুঝে সাহায্যকারী ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

পরিবারের দায়িত্ব

এসব ক্ষেত্রে পরিবারকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হয়। প্রবীণদের প্রতি পরিবারের লোকজনের সহানুভূতিশীল আচরণ খুব জরুরি। রোগীকে সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ব্যবস্থা করতে হবে, চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক সাহচার্যই পারে এ ধরনের রোগীকে সুস্থ করে তুলতে।

এ বি এম আবদুল্লাহ : অধ্যাপক, ডিন, মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ

Advertisement