শ্বেতী রোগ কী কী ধরনের হয়?

০১ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪২

ফিচার ডেস্ক
শ্বেতী রোগের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. জাহেদ পারভেজ ও সানজিদা হোসেন। ছবি : এনটিভি

শ্বেতী একটি অটো ইমিউন রোগ। এই রোগটি আসলে কী এবং রোগটি কী কী ধরনের হয়, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. জাহেদ পারভেজ।

বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৫০৭তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : ভিটিলিগো বা শ্বেতী রোগটি আসলে কী?

উত্তর : ভিটিলিগোকে মূলত শ্বেতী বলা হয়। কেউ কেউ একে ধলকুষ্ঠ রোগ বলে। আমাদের সমাজে একশ্রেণির ধারণা, এটি একটি অভিশাপ। আসলে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোনো ধরনের জীবাণুঘটিত বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমক এটি নয়। এটি ছোঁয়াচেও নয়। এটি হলো, আসলে একটি অটো ইমিউন রোগ। শরীরের ইমিউন সিস্টেমটা হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি হয়। এর কারণে ইমিউন সিস্টেমের কোষগুলো নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করে। এর সঠিক কারণ কী, এটি আজ পর্যন্ত নির্ণীত হয়নি।

প্রশ্ন : কী কী ধরনের ভিটিলিগো দেখা যায়?

উত্তর : আমরা প্রচলিতভাবে যেটি পাই, প্যাচি ভিটিলিগো বা সেগমেন্টাল ভিটিলিগো। কারো কারো হয়তো হাতের আঙুলের জায়গাটা সাদা হয়ে যাচ্ছে। মেলানোসাইট কোষ, যেটি পিগমেন্ট তৈরি করে আমাদের শরীরকে রং দেয়, সেটার ক্ষতি হয়, অটো ইমিউন একটি গণ্ডগোলের কারণে। এ ছাড়া গালে হতে পারে। এমনকি স্ক্যাল্পেও হতে পারে।

স্ক্যাল্পে হলে প্রথম অবস্থায় বোঝা একটু কঠিন। অনেকে বলে অকালে চুল পেকে যাচ্ছে। কিছুদিন ফলোআপ করলে দেখা যায় যে স্ক্যাল্পের রংটাও সাদা হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সেটি ভিটিলিগোর দিকে যাচ্ছে। কারো কারো সমস্ত শরীরেও হয়ে যায়। ৭০ থেকে ৯০ ভাগ হয়তো হয়ে যায়। যেহেতু এটি কসমেটিকভাবে একটি গ্রহণীয় জিনিস নয়, আমাদের সমাজে, তাই দ্রুত চিকিৎসা করতে হয়।