Beta

ছুলি : কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

৩০ জুলাই ২০১৯, ১৪:২১

ফিচার ডেস্ক
বর্ষায় ত্বকের রোগের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন ও ডা. সানজিদা হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

চলছে বর্ষাকাল। এ সময় ছুলি বা ছত্রাকজনিত রোগের প্রভাব বাড়তে থাকে। বর্ষায় ছত্রাকজনিত রোগের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন।

বর্তমানে তিনি শিওর সেল মেডিকেলের ডার্মাটোলজি বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪৯৯তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : বর্ষায় ত্বকের সুরক্ষা বলতে আসলে কোন কোন বিষয়কে বলা হচ্ছে?

উত্তর : পঞ্জিকামতে, এখন বর্ষাকাল। তাই বলে গরমের তীব্রতা কিন্তু কমেনি। গরমও রয়েছে, আবার পরিবেশটাও স্যাঁতসেঁতে। এ দুটো কারণে বর্ষাকালে কিছু রোগ ত্বকে দেখা দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন যে রোগগুলো রয়েছে, সেগুলোও কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের আজকের বিষয় যেহেতু বর্ষায় ত্বকের সুরক্ষা, এটিকে মাথায় রেখে আমি আজ দুটো বিষয় ফোকাস করব।

প্রথমত, বর্ষার সময় যে রোগগুলো হয়, সেগুলো যেন এ সময় না হয় এবং যাদের হয়ে গেছে, সেগুলো থেকে যেন কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।

প্রশ্ন : বর্ষায় কোন কোন সমস্যা নিয়ে রোগীরা আপনাদের কাছে আসে?

উত্তর : বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতা বাড়তে থাকে। আর আবহাওয়া সে জন্য হয় স্যাঁতসেঁতে। ঘাম হওয়ার কারণে কিন্তু এ সময় কাপড় ভেজা থাকে, পাশাপাশি কাপড় ঠিকমতো শুকাতে চায় না। এসব কারণে আমাদের ত্বক হয়ে ওঠে নানারকম জীবাণুর জন্য অনুকূল। সাধারণত গ্রীষ্মকালে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে রোগগুলো বেশি হয়। আর বর্ষাকালে হয় ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দিয়ে। এদের মধ্যে একটি হলো পিটারিয়াসিস ভার্সিকালার। একে আমরা সাধারণ ভাষায় ছুলি বলে থাকি। ম্যালাসেজিয়া ফারফার নামের এক ধরনের ছত্রাক দিয়ে এটি হয়ে থাকে। সাধারণত একে আমরা বর্ণচোরা রোগ বলে থাকি।

যাদের রোগ একটু বাদামি, তাদের দাগ বা র‍্যাশগুলো একটু হালকা রঙের হয়ে থাকে। আর যাদের রং সাদা, তাদের ক্ষেত্রে একটু গাঢ় রঙের দাগ হয়ে থাকে। সাধারণত এক এক শরীরে এক এক রঙে, এক একভাবে দেখা যায়। আবার ছোট ছোট প্যাঁচ দেখা যায়, গোল গোল সেগুলো একত্র হয়ে র‍্যাশের তৈরি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে ঘাড়-পিঠ ছাড়িয়ে হাতের দিকে চলে আসে। অনেকের ক্ষেত্রে মুখেও দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ছুলির তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। একটু হয়তো হালকা চুলকায় বা একটু অস্বস্তি অনুভব হয়।

অন্যান্য ছত্রাক থেকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিলেও এখানে তেমন তীব্রতা দেখা দেয় না। একটু অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়, একটু মাঝেমধ্যে আঁশের মতো উঠতে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমরা লম্বা সময় চিকিৎসা নিতে বলি। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন যদি ঠিকমতো চিকিৎসা না করে, কিছুদিন ব্যবহারের পরে একটু উপশম পেল বন্ধ করে দেয় বা যত্রতত্র ফার্মেসি থাকে ওষুধ কিনে সেবন করে তাহলে সমস্যা হয়।

ছুলির ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগটি ভালো হলেও দাগ কিন্তু বেশ কিছুদিন পর্যন্ত থাকে। আর যদি জটিলতা দেখা দেয়, সেগুলো বছরজুড়ে ভোগাতে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমরা রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওয়েনমেন্ট ব্যবহার করতে বলি। আমরা মুখে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ সেবন করতে বলি। এরপর আমরা অ্যান্টিফাঙ্গাল সোপ ব্যবহার করতে বলি, শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলি।

অ্যান্টিফাঙ্গাল সোপের বেশ প্রচলন এসেছে। কারণ, এগুলো কেবল বর্ষাকালে নয়, অন্যান্য সময়ও ব্যবহার করতে পারেন। আমরা রোগীদের বলি, এক বা দুই মাস টানা ব্যবহারের পর প্রতিরোধের জন্য সপ্তাহে এক বা দুদিন আপনি অ্যান্টিফাঙ্গাল সোপ ব্যবহার করতে পারেন। যাদের একবার সংক্রমণ হয়, তাদের বারবারই হওয়ার প্রবণতা থাকে।

আরেকটি ছত্রাক হলো টিনিয়া। ডার্মাটোফাইট ইনফেকশন এটি নখে, শরীরের বিভিন্ন অংশে, ভাঁজে, নানাভাবে নানা নামে আসে।

কৃষকরা, যারা কাদা-পানিতে বেশিরভাগ সময় থাকে, তাদের টিনাপেডিস হয়। আর যাঁরা জিমে কাজ করেন, ভেজা মোজা পরে রয়েছেন বা পরিষ্কার কোনো মোজা ব্যবহার করছেন না, তাঁদেরও কিন্তু এ সমস্যাটা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গৃহিণী, যারা অনেক পানি দিয়ে কাজ করছে, তাদের ক্ষেত্রে অনাইকোমাইকোসিস হয়। নখে হয় ফাঙ্গাল ইনফেকশন। সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনও হয়ে থাকে। এটি খুব ব্যথাযুক্ত। আসলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বর্ষায় সুযোগ খুঁজতে থাকে।

Advertisement