Beta

থ্যালাসেমিয়া : চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

০৮ মে ২০১৯, ২১:১৩

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল
থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের রক্তের অসুখ। ছবি : সংগৃহীত

থ্যালাসেমিয়া একটি বিশেষ ধরনের রক্তরোগ। এটি জিনগত কারণে হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগে শরীরে বিশেষ ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লেবিন তৈরি হয়।

এই ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিনের কারণে রক্তের লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কমে যায়। এতে লোহিত কণিকাগুলো সহজেই ভেঙে যায়। তাই অস্থিমজ্জার পক্ষে একই হারে লোহিত কণিকা তৈরি সম্ভব হয় না। এ কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। আর একেই  থ্যালাসেমিয়া বলে।

চিকিৎসা

থ্যালাসেমিয়ার মূল চিকিৎসা হলো রক্ত পরিসঞ্চালন । আয়রন বেড়ে গেলে ওষুধের মাধ্যমে তা কমাতে হয়। তবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বা আয়রনের ওষুধ খাওয়া একদম নিষেধ।

প্লীহা বড় হয়ে গেলে সার্জারি করে সেটা কেটে ফেলতে হয়। আসলে থ্যালাসেমিয়ার স্থায়ী চিকিৎসা হলো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল।

আসলে বাংলাদেশের ১০ ভাগ মানুষ জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে বহন করছে থ্যালাসেমিয়ার জিন। এরা বাহক। অধিকাংশ বাহকেরা জানতেও পারে না যে তারা বাহক।

দুজন বাহকে বিয়ে হয়ে গেলে সর্বনাশ। আশঙ্কা থাকে এদের পঁচিশ শতাংশ বাচ্চা থালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে, পঞ্চাশ শতাংশ হবে ক্যারিয়ার। তবে একজন বাহক আর একজন বাহক নন এমন ব্যক্তির মধ্যে বিয়ে হলে কোনো ভয় নেই।

বাংলাদেশে প্রতি বছর দেড় হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামি পঞ্চাশ বছরে থ্যালাসেমিয়ার রোগী দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ব্যাপারটার ভয়াবহতা কি আমরা বুঝতে পারছি?

এখন আমাদের করণীয় কি?

একটা প্রোগ্রাম হাতে নিলেই বড় একটা কাজ হয়ে যাবে। দেশের সব মানুষকে বিনামূল্যে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস করার একটা ব্যবস্থা করতে হবে বা শুধু স্কুলগুলোতে রক্তের রুটিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে কাদের নিরব রক্তস্বল্পতা রয়েছে তা দেখে নেওয়া গেল । ব্লাড গ্রুপের মত মানুষ জানুক তার হিমোগ্লোবিনের খবর। সে কি ক্যারিয়ার নাকি নিরব ভুক্তভোগী?

এইটুকু হলেই হবে। দুজন ক্যারিয়ার বিয়ে করবে না বা যদি করেই ফেলে সন্তান পেটে আসলে ভ্রুণের পরীক্ষা করিয়ে নেবে। শিশু থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।  এ জন্য সরকার,  এনজিও, দাতা গোষ্ঠীর সাহায্য দরকার।

আমার দাবিটা একটু বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ বছর পর থ্যালাসেমিয়া একটা জাতীয় দুঃখ হয়ে যাবে।

সাইপ্রাসে এরকম হয়েছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী ছিল তাদের দেশে।  তারা ঠিক উপরের পদ্ধতিতে কাজ করে এখন থ্যালাসেমিয়াকে নিয়ে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। বাংলাদেশেও সম্ভব।

বিষয়টা সবার জানা দরকার;  সবাইকে জানানো দরকার। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কেবল  একটা সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

লেখক : রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisement