ঋতুস্রাবের বয়স আট থেকে ১৬ স্বাভাবিক

১৭ মার্চ ২০১৯, ১৮:০৭

ফিচার ডেস্ক
বয়োসন্ধিকালে ঋতুস্রাবের বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. বর্ণালী দাশ। ছবি : সংগৃহীত

ঋতুস্রাব নারী শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাব হওয়ার স্বাভাবিক বয়স আট থেকে ১৬। বর্তমানে অনেকের ক্ষেত্রে একটু অল্প বয়সেই ঋতুস্রাব হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

এসব বিষয় নিয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৩৭২তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. বর্ণালী দাশ। বর্তমানে তিনি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ঋতুস্রাব সাধারণত কোন বয়সে শুরু হয়? এটি নিয়ে অভিভাবকদের করণীয় কী?

উত্তর : ঋতুস্রাবের সময় বয়োসন্ধি একটি মেয়ের নতুন একটি চাপের সৃষ্টি হয়। সে এসব বিষয় নিয়ে কথাও বলতে পারে না। মানসিকভাবে অনেক চাপের মধ্যে থাকে। সেই ক্ষেত্রে মা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি তাকে একটু পরামর্শ দেয়, তাহলে ভালো হয়।

প্রশ্ন : বয়সটা কখন?

উত্তর : এখন একটু আগে চলে আসছে। আট থেকে ১৬ আমরা ধরি। এটা এখন সাধারণত আট থেকে ১০ বছরের মধ্যেই হয়ে যায়। এখন এটা একটু আগেই হয়। অনেক মা এই  বিষয়টি নিয়েও আসে। এসে বলে, ‘ম্যাডাম এত  আগে হয়ে গেল। আমি তো সপ্তম/অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হয়েছিল। ওর কেন চতুর্থ/ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় হলো? এর জন্য আসলে পরিবেশগত একটি বিষয়ও রয়েছে। এই জন্য একটু আগেই হয়ে যায়।

এই সমস্যাটি নিয়েই প্রথমে আসে। আমরা তখন তাকে বোঝাই, এটি স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যেই রয়েছে। আট থেকে ১৬ পর্যন্ত আমরা একটি স্বাভাবিক অবস্থা ধরি। স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই এটা রয়েছে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আর মেয়েটির ক্ষেত্রে আমরা মাকে বলি, তাকে ভালোভাবে মানসিক সাহায্য করতে। আমি তো সব রকম সহযোগিতা ওকে দিতে পারব না। আমার সঙ্গে অতটা খোলামেলাও সে প্রথমে হবে না, কিন্তু মা যদি পরামর্শ দেয়, যে এটি কোনো রোগ নয়, একটি সময় গিয়ে সব মেয়েদেরই হয়, তাহলে মেয়েটির বুঝতে সুবিধা হয়। তখন মেয়েটি আস্তে আস্তে বিষয়টি বুঝতে পারে। এরপরও একটি সাইকোলোজিক্যাল ট্রমার মতো হয় তাদের। দৈহিক গঠনগত অনেক পরিবর্তনই তো সঙ্গে সঙ্গে হয়। কাউন্সেলিং এই ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের প্রভাব রাখে।

প্রশ্ন : ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

উত্তর : প্রথম দিকে মায়েরা যেটা বলে যে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়। আজকে হলো। আবার দুই মাস হয়তো হলো না। আমরা তখন বলি, এটি  হরমোনের পরিবর্তন। প্রথম দুটো- তিনটি বছর হরমোনের পরিবর্তন হয়। যদি কোনো প্যাথোলজি না থাকে আমরা একটি আল্টাসোনোগ্রাফি করিয়ে ফেলি। আর এই সম্পর্কিত কিছু পরীক্ষা করি। থাইরয়েডের সমস্যার কারণে অনেক সময় সমস্যা হতে পারে। অথবা ব্লিডিং ডিজঅর্ডারের রয়েছে কি না, এই বিষয়গুলো দেখি।

যদি পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা না পড়ে, তাহলে এটিই স্বাভাবিক, এভাবে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বলি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে ওর শরীরের খাবার দাবারের বিষয়েও মাকে বলে দেই। একটু স্বাস্থ্যকর খাবার, একটু পুষ্টিকর খাবার, ডিম, দুধ, সঙ্গে একটু আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য। তিনটি- চারটি চক্রের পর ওই রোগী ঠিক হয়ে যায়।