শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কী?

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৫

ডেঙ্গু জ্বর বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম। শিশুরাও এই জ্বরে ভুগছে। শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৯০তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. কুন্তল রায়।

ডা. কুন্তল রায় বর্তমানে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ডেঙ্গু জ্বর এখন একটু ভিন্ন ধারায় চলছে। বেশ কিছুদিন ধরে ভীতিকর একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একটু জানতে চাইব, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ডেঙ্গু জ্বরটা কীভাবে আসছে?

উত্তর : আসলে ডেঙ্গু জ্বর সবার ক্ষেত্রে একইভাবে আসে। প্রথমে তীব্র জ্বর থাকে। অনেক বেশি জ্বর থাকে। জ্বরের মাত্রা ১০২/১০৩ বা এর থেকেও বেশি থাকতে পারে। এভাবে জ্বরটা তিন থেকে পাঁচ দিন থাকে। কারো ক্ষেত্রে আরো বেশিদিনও থাকতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা থাকতে পারে, চোখব্যথা থাকতে পারে। সঙ্গে বমি থাকতে পারে, পেটেব্যথা থাকতে পারে। সঙ্গে পাতলা পায়খানা থাকতে পারে। এর সঙ্গে দানা দানা র‍্যাশের মতো থাকতে পারে। সব ক্ষেত্রে আসে না, কিছু ক্ষেত্রে আসে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একেবারে নিস্তেজ হয়ে যায়।

মা বা অভিভাকদের অভিযোগ থাকে, বাচ্চা কিছুই মুখে দিচ্ছে না, সে বমি করছে। বাচ্চার জ্বর আসছে, বাচ্চা একেবারে নীরব, নিস্তেজ হয়ে গেছে। এসব সমস্যা নিয়ে সাধারণত আমাদের কাছে আসে। আমরা এ বছর যেই ডেঙ্গুগুলো পাচ্ছি, সেগুলো আলাদা ধারার।

প্রশ্ন : আলাদা বলতে কী দেখছেন?

উত্তর : যেই বাচ্চাগুলো ডেঙ্গু নিয়ে আসছে, দেখা যাচ্ছে তারা একেবারেই নিস্তেজ। সেই সঙ্গে আমরা দেখি পালস খুব কম, পানি শূন্যতা চলে এসেছে। কিছু কিছু বাচ্চা শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসে। তার বুকে পানি জমে যায়।  আমরা হয়তো রক্তচাপটা খুব কম পাই। আমরা যখন প্লেটিলেট গণনা করি, তখন দেখি খুবই কম।

দেখা গেছে, আগের দিন রাতে আমরা প্লেটিলেট গণনা খুব ভালো পেয়েছি, পরের দিনই প্লেটিলেট গণনা তিন লাখ থেকে চল্লিশ হাজারে  নেমে গেছে।

প্রশ্ন : এর কারণ কী? বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে কেন?

উত্তর : আসলে ঢাকা শহরে অনেক আগে থেকেই হয়। আমরা জানি, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাস রোগ। এর চারটি ধরন থাকে। চারটি আলাদা আলাদা ভাইরাস। বলা হয়, একটি ভাইরাস যদি একবার হয়, সে ভাইরাস দিয়ে পরে হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। দেখা যায়, দ্বিতীয়বার যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় তখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

আগে যেই ভাইরাস দিয়ে ডেঙ্গু হয়েছিল, সেটি দিয়ে আর ডেঙ্গু হবে না। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার পর যে ডেঙ্গুগুলো সেগুলো অনেক বেশি খারাপ পর্যায়ে আসছে। আমরা আসলে জানি না যে কোন মানুষ বা কোন বাচ্চা কতবার আক্রান্ত হয়েছে।

অনেক সময় দেখা যায়, একটি বাচ্চা প্রথমবার কেবল ভাইরাল ফিবারের লক্ষণ  নিয়ে আসছে। আমরা আসলে জানি না যে কোন মানুষ বা কোন বাচ্চা কতবার আক্রান্ত হয়েছে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় প্রথমবার একটি বাচ্চা কেবল ভাইরাল ফিবারের মতো লক্ষণ নিয়ে আসে। আমরা ভাবছি, এটি সাধারণ ভাইরাল ফিবার। আমরা তার ডেঙ্গুর কোনো পরীক্ষা করিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা পরীক্ষা করি না। আমরা মনে করি, এটি সাধারণ ভাইরাসে হয়েছে। পরীক্ষা না করলে আসলে ১০০ ভাগ নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই।