Beta

মোটা গরু মানেই সুস্থ গরু নয়

২১ আগস্ট ২০১৮, ১০:৫৯

কোরবানি দেওয়া ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই একটু দেখেশুনে কোরবানির জন্য সুস্থ-সবল রোগমুক্ত পশু কেনা ভালো। এতে আপনার কোরবানির মাংস ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ঈদ হয়ে উঠবে আরো আনন্দময়। 

উচ্চাভিলাষী কিছু মানুষ কোরবানিকে ভোগের উৎসব এবং প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত করে বড় আকৃতির মোটাতাজা গরু কিনে থাকেন। আর এই প্রতিযোগী মনোভাবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিকভাবে ঈদের কিছুদিন আগে রোগাক্রান্ত ও শীর্ণকায় গরু অল্প টাকায় কিনে বেশি মুনাফা লাভের আশায়  বিভিন্ন ওষুধ ও স্টেরয়েড ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। মোটা মানেই বেশি মাংস,  বেশি লাভ, বাজারে বেশি চাহিদা। এ ধরনের মোটাতাজা গরুর মাংসে বিদ্যমান ক্ষতিকর উপাদান রান্না করার সময়ও নষ্ট হয় না। এটি মানবদেহে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঝুঁকিপূর্ণ মোটাতাজা গরু চেনার উপায়

মোটা গরু মানেই কিন্তু সুস্থ গরু নয়। আস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ, ইনজেকশন দিলে গরুর পুরো শরীরে পানি জমে মোটা,  নাদুসনুদুস দেখাবে। গরুর তেজি আচরণ থাকবে না,  ঝিমুনি ভাব থাকবে,  লেজ ও কান কম নাড়াবে। আশপাশে তেমন খেয়াল করবে না। গরুর প্রস্রাব ও পায়খানার রং অস্বাভাবিক থাকবে। গরুর পেছনের ঊরুর মাংসে চাপ দিলে তা ভেতরের দিকে ডেবে যাবে এবং তা ভরাট হতে সময় লাগবে। গরুর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে।

গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝরবে ও গরুকে ক্লান্ত দেখাবে। গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি নিজ থেকে জিভ দিয়ে খাবার টেনে নিয়ে খেতে থাকে, তবে বোঝা যাবে গরুটি সুস্থ। যদি অসুস্থ হয়, তবে সে খাবার খেতে চায় না।

মানবদেহে ঝুঁকিপূর্ণ মোটাতাজা গরুর মাংসের স্বাস্থ্যঝুঁকি

শরীরে রোগজীবাণুর আক্রমণ বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে। এতে তাড়াতাড়ি হাড়ের ক্ষয় দেখা দিতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের বৃদ্ধি বাধা পেতে পারে। পাশপাশি শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া শিশুরা তাড়াতাড়ি বেশি মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ,  ডায়াবেটিস,  কিডনি ফেইলিউর,  হৃদরোগ, এমনকি স্ট্রোকও হতে পারে।

শরীরের ওজন বাড়ে।  কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু গর্ভবতী নারীরা খেলে গর্ভের সন্তান বিকলাঙ্গ হতে পারে। মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল সময়ের আগে ঘটতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পশুর মাংস স্তন, লিভার,  প্রোস্টেটসহ বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

তাই কোরবানির পশু কেনার ক্ষেত্রে বেশি মাংস হবে এমন গরু নয়; বরং দেশি, রোগ মুক্ত,  বেশি নাদুসনুদুস নয় এমন হালকা-পাতলা স্বাভাবিক পশু কেনার চেষ্টা করুন। দিনের আলোতে সুস্থ পশু চেনে এমন অভিজ্ঞ লোক নিয়ে পশু কিনতে যান।

লেখক : সভাপতি, বিশুদ্ধ খাদ্য চাই এবং সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, সাভার।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement