কোমর ব্যথা থেকে দূরে থাকার উপায়

০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৩

জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথা হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিছু বিষয় মেনে চললে কোমর ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৬৩তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া, আইসিইউ ও পেইন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : কোমর ব্যথা প্রতিরোধে করণীয় কী?

উত্তর : প্রথমে বলি, কোমর ব্যথাগুলো কেন হয়ে থাকে সে বিষয়ে? আমাদের মায়েরা কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতন নন। তাঁদের জীবনযাপনের ধরনটা তাঁরা ঠিক করতে পারেন না। একটি বয়সে মায়েদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। এই সবকিছু মিলে হাড়গুলো অনেক বেশি ক্ষয় হয়ে যায়। আমাদের দেশের মায়েদের কোমর ব্যথার অন্যতম কারণ হলো অস্টিওপরোসিস, হাড়ে ক্যালসিয়ামের অভাব। প্রসবের পরেও ব্যথা হয়।

আরেকটি বিষয় জরুরি সেটি হলো ভিটামিন ডি। মায়েরা কিন্তু এখন সূর্যের আলোতে যাচ্ছে না। মায়েরা সূর্যের আলো পাচ্ছে না। সূর্যের আলো না পেলে ভিটামিন ডি কম পাচ্ছে। সে জন্য মায়েদের একটি বয়সের পর থেকে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া উচিত।

রোগী দেখার সময় দেখতে পাই, বেশিরভাগ রোগী কোমর ব্যথা নিয়ে আসেন। ডিস্ক প্রোলাপসের সমস্যা মায়েদেরও রয়েছে। তবে এর পরিমাণ অনেক কম। এ ক্ষেত্রে মনে হয়, আমাদের মায়েদের একটু স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত। মায়েরা একটি বয়সের পর যখন বাচ্চাকে ধারণ করবেন, নার্সিং করবেন, তখন তাঁদের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত। মাকে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে। দুধ খাওয়ানো, মাছ খাওয়ানো এগুলো করতে হবে।

এখন আসি ছেলেদের ব্যথা কেন হচ্ছে, এ বিষয়ে। এখানে দুটো দল রয়েছে। একটি দল হলো যারা অফিস-আদালতে কাজ করে। এই সময় স্বাভাবিক যে ব্যায়াম দরকার, সেটি আমরা করি না। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকি। মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকি। খেলাধুলা হচ্ছে না। না হওয়ার জন্য জয়েন্টগুলো আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে পেশিগুলোর ব্যায়াম হচ্ছে না। পেশিগুলো যদি কাজ না করে, রক্ত চলাচল কমে যাবে। রক্ত চলাচল কমে গেলে আমাদের ক্যালসিয়ামগুলো ঢুকবে না। যারা সেডেন্টারি কাজ করে, তাদের একটি বড় সমস্যা এটি। ২০ মিনিট যদি আপনি বসে থাকেন বা দাঁড়িয়ে কাজ করেন, ২০ সেকেন্ডের জন্য হলেও নড়াচড়া পরিবর্তন করবেন।

আরেকটি বিষয় হলো ধূমপান করা থেকে বিরত থাকবেন। একসময় বলা হতো, ধূমপান ক্যানসারের জন্য অন্যতম কারণ। ধূমপান কোমর ব্যথার জন্য অন্যতম কারণ। অতএব, যারা ধূমপান করে, তাদের বিরত থাকা উচিত।

এখন বলি যারা কায়িক পরিশ্রম করছে, আমাদের যারা রিকশাওয়ালা ভাই বা কৃষক ভাই, অনেক সময় ধরে বসে কাজ করেন, অনেক সময় দেখেন টয়লেটটাও ভালো নয়, তাঁদের সব সময় কোমরের ওপর একটি চাপ পড়ে যাচ্ছে। তাঁদের সাপ্লিমেন্টেও হচ্ছে না। আমাদের যারা সেডেন্টারি জীবনযাপন করে, তাদের কোমর ব্যথা হচ্ছে। এদের কোমর ব্যথাটা মূলত মেকানিক্যাল ব্যাকপেইন। তাদের ট্রমা হচ্ছে, তবে সঠিকভাবে পুষ্টি ভালো না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। তাঁরা অস্বাস্থ্যকর টয়েলেট ব্যবহার করছেন। ধূমপান অনেক বড় একটি কারণ।

এসব ব্যথা নিয়ে যখন যাচ্ছেন, দোকানিরা স্টেরয়েড দিয়ে দিচ্ছেন, একটি স্ট্যারয়েড ট্যাবলেট দিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে দেখবেন গুরু মোটাতাজাকরণের জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট দিয়ে থাকেন। পেডনিসোলন জাতীয় ওষুধগুলো তাঁরা খেয়ে নিচ্ছেন। একটি খেয়ে একটু ভালো হচ্ছেন। ব্যথা চলে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা কিন্তু ভুগছেন। তাঁদের বিভিন্ন রোগ ধরছে, ডায়াবেটিস হচ্ছে, প্রেশার হচ্ছে। আরেকটি হলো শরীরের যে ভার্টিব্রা থাকে, সেটি কমে যাচ্ছে। এটি একটি বড় বিষয় আমাদের জন্য। আরেকটি বিষয় হলো যখনই একটি ব্যথা হচ্ছে, একে আমরা বলি এনএসআইডি।

তাঁরা কায়িক পরিশ্রম বেশি করেন। কায়িক পরিশ্রম বেশি করার পর পানিশূন্যতা অনেক কমে যায়। পানিশূন্যতা যদি থাকে, এ ধরনের ওষুধ যদি খেয়ে থাকি, তাহলে তাঁদের সমস্যা অনেক বেশি হয়ে যায়। তাঁদের গ্যাস্ট্রিক, প্যাপটিক আলসার রোগ এগুলো হয়ে থাকে। সে জন্য ওষুধ খাওয়ার বিষয়ে খুবই সচেতন হওয়া উচিত। নিয়মিত একটু ব্যায়াম করা, নিয়মিত অঙ্গবিন্যাস মেনে চলা, এটি একটি জরুরি বিষয়।