সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদের স্মারকলিপি পেশ

২৯ জুলাই ২০১৮, ১৭:৩১

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিব বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ। ফিজিওথেরাপি কলেজ ও  কাউন্সিল  বাস্তবায়ন দাবীতে আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পদযাত্রা ও পরে স্মারকলিপি পেশ করে পরিষদ।

কয়েক শতাধিক ফিজিওথেরাপি ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, ফিজিওথেরাপি সেবা গ্রহণকারী ও ফিজিওথেরাপির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পদযাত্রা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে সেখানে পরিষদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়।  

সংগঠনের মুখপাত্র ডা. দলিলুর রহমান বলেন, ‘ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম বাস্তব ভিত্তিক বিজ্ঞানসম্মত, স্বাধীন স্বতন্ত্র নিরাপদ ও কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্টিজনিত দুর্যোগ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ,  স্ট্রোক, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আধিক্য ও বার্ধক্য, জলবায়ুর পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে রোগ বালাই, শিশুদের জন্মগত শারীরিক ত্রুটির ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি, অটিজম, ক্রীড়াঘাত, বিভিন্ন রকম বাত ব্যথা, প্যারালাইসিসজনিত কারণসহ বিভিন্ন কারণে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।’

দলিলুর রহমান আরো বলেন, ‘এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানসম্মত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ স্বাভাবিক কর্মক্ষম করে  বোঝার পরিবর্তে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এর জন্য দেশে অনেক সুশিক্ষিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক পেশাজীবী তৈরি করার জন্য ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’

বক্তারা অভিযোগ করেন বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশা ৫০ বছর এর অধিক সময় অতিবাহিত করলেও আজ অবধি বিভিন্ন বাধা বিপত্তির কারণে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই আধুনিক শাখাটির জন্য কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করা হয় নাই । ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রসারের জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মহাখালীতে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য সরকার সোয়া পাঁচ একর জমি ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও আজ অবধি কোনো উদ্যোগই  নেওয়া হয়নি।

কলেজ ভবন নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েক বছরে রাজধানীতে চার দফায় ৫২ দিন আমরণ অনশনসহ অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার পর ২০০৯ সালে ওই জায়গায় কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক এবংঅতপর বস্তি উচ্ছেদ করা হয় এবং দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু কলেজ ভবনের কাজ গত ৯ বছরেও শুরু হয়নি। তাই আবারও বস্তি হয়। এর আগে বস্তিবাসীর পক্ষে রিটের নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্টবিভাগকে অবৈধ দখলদারদের দুই মাসের সময় দিয়ে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য জমি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জারি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনকি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি ।