Beta

সিওপিডির চিকিৎসা কী?

২২ জুলাই ২০১৮, ১৭:০৫

ফিচার ডেস্ক

ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি শ্বাসতন্ত্রের একটি জটিল রোগ। এই রোগের চিকিৎসার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৪৮তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. রৌশনী জাহান।

অধ্যাপক ডা. রৌশনী জাহান বর্তমানে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিভাগের ইউনিট প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : সিওপিডির চিকিৎসা কী?

উত্তর : যেসব বিষয়ের জন্য সিওপিডি রোগীগুলোর ফুসফুসের কার্যক্রম খারাপ হয়ে যেতে থাকে,এগুলোকে আমরা টার্গেটে রাখি। আমরা নির্মূল করতে পারি না সিওপিডিকে। তবে আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। নিয়ন্ত্রণ রাখতে গিয়ে রোগী যে সুবিধাটা পাবে, এর মধ্যে এক নম্বর হলো কোয়ালিটি অব লাইফ। অর্থাৎ তার যে শ্বাসকষ্ট,কাশি,এগুলোতে তার যে কষ্ট হচ্ছে, এগুলো থেকে তাকে একটু উপশম দেয়া যায় কি না সেটি দেখি।

অনেক সময় অনেক দিনের পুরোনো সিওপিডি রোগীদের মধ্যে দেখা যায়, তাদের কিছু কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সেই জটিলতার চিকিৎসা আমরা করি।

প্রশ্ন : কী কী বিষয় মেনে চললে একজন সিওপিডি রোগীর রোগটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

উত্তর : এখানে ফার্মাকোলজিক্যাল ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের যেমন চিকিৎসা হয়, সেরকম চিকিৎসা হবে। তবে একটি বিশেষ বিষয় রয়েছে। একটি ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা ওষুধটা দিয়ে রাখি। সরাসরি ফুসফুসে যেটা দিয়ে থাকে। এটি হলো ইনহেলার। এটা হচ্ছে তার চিকিৎসার অন্যতম একটি অংশ। সুনির্দিষ্ট যেই জিনিসটা তাদের করা দরকার, এটি মেনে চললে অনেক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কেবল ওষুধ দিলেই হবে না। আমরা বলছি, ধূমপান করবে না, সিওপিডি রোগটা এতে বেড়ে যাচ্ছে। ধূমপান তাকে বন্ধ করতে হবে। আর গ্রামে যাদের বায়ো মাস ফুয়েলের জন্য হয়, সেখানে তারা রান্না করার সময় মাস্ক ব্যবহার করবে। অথবা সম্ভব হলে ধোঁয়া নির্গত হয় না এমন ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। কলকারখানার ধোঁয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই ধরনের জিনিসগুলো যদি সম্ভব হয় তাহলে ভালো।

আর বার বার সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়,এ জন্য ভ্যাক্সিন দরকার হয়। বেড়ে যাওয়াকে তরান্বিত করে কিছু প্রদাহ। ওই জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, সেটা প্রতিরোধ করার জন্য প্রতি বছরে একবার করে যদি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাক্সিন নেয়া যায়, আর পাঁচ বছর পর পর নিউমোনিয়ার যে ভ্যাক্সিন, সেটি নিলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। হঠাৎ করে খারাপ হওয়া থেকে রোগী মুক্তি পেতে পারে।

Advertisement