Beta

উচ্চ রক্তচাপের কারণ কী?

১৭ জুলাই ২০১৮, ১৪:০০

উচ্চ রক্তচাপের কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজানা। ছবি : সংগৃহীত

৯০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। একে প্রাইমারি বা এসেনসিয়াল উচ্চ রক্তচাপ বলে। সাধারণত বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু বিষয় উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ায়। যেমন :

  • বংশানুক্রমিক : উচ্চ রক্তচাপের বংশগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সন্তানেরও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে।
  •  ধূমপান : ধূমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ : খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে। এটি রক্তের জলীয় অংশ বাড়ায়। এতে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপও বেড়ে যায়।
  • অধিক ওজন এবং অলস জীবনযাত্রা : যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় এবং এর কারণে অধিক ওজনসম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ হয়।
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, যেমন : মাংস, মাখন এবং ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেলে ওজন বাড়বে। ডিমের হলুদ অংশ এবং কলিজা, মগজ এসব খেলে রক্তের কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। রক্ত অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালির দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এতে রক্তচাপ বাড়তে পারে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান : যারা নিয়মিত অত্যধিক পরিমাণে মদ্যপান করে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়। অ্যালকোহলে অতিরিক্ত ক্যালরি থাকে। এতে ওজন বাড়ে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিস রোগীদের অ্যাথারোস্কেরোসিস বেশি হয়। এতে প্রবীণদের সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এ ছাড়া তাদের অন্ধত্ব ও কিডনির নানা রকম রোগ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা : অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই মানসিক চাপ অব্যাহত থাকলে এবং রোগী ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
  • কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো :
  • কিডনির রোগ।
  • অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থির টিউমার।
  • ধমনীর বংশগত রোগ।
  • গর্ভধারণ অবস্থায় অ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রিঅ্যাকলাম্পসিয়া হলে।
  • অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।

লেখক : ডিন, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement