Beta

ফ্যাটি লিভার ডিজিসের চিকিৎসা কী?

২৮ জুন ২০১৮, ১৪:২৮

ফিচার ডেস্ক

ফ্যাটি লিভার ডিজিস বর্তমানে একটি প্রচলিত সমস্যা। জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন করলে এ সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যায়।

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১২১তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. ফাওয়াজ হোসেইন শুভ। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : আপনারা জীবনযাপন পরিবর্তনের জন্য কী পরামর্শ দিয়ে থাকেন?

উত্তর : আমরা জীবনযাপন পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। তার সঙ্গে এই রোগ যেন বাড়তে না পারে, সে জন্য যা যা করা দরকার, তার সবই করে থাকি। আমি আবারও বলছি, ফ্যাটি লিভারকে আপনারা কখনো অবহেলার চোখে দেখবেন না। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা অবশ্যই করতে হবে। আমাদের দেশে আমরা ভালোমতো এর চিকিৎসা করছি। কিন্তু দেরি হলে এই ফ্যাটি লিভার সিরোসিস হয়। অনেকে মনে করে, ফ্যাটি লিভার হয়েছে তো কী, একটু খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলে হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। এটা সঠিক নয়।

আমাদের কাছে প্রায় ৭০ ভাগ রোগী ফ্যাটি লিভারের জটিলতা নিয়ে আসছে। বি ভাইরাস, সি ভাইরাস নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হচ্ছি না। ফ্যাটি লিভারের রোগীগুলো এত বেশি আসছে আমাদের কাছে। প্রায়ই এ ধরনের রোগী আসছে, যার লিভার সিরোসিস হয়ে যাচ্ছে।

আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি, প্রত্যেক নাগরিককে ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ফ্যাটি লিভার যদি ধরা পড়ে, অবশ্যই আপনারা লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। এতে ফ্যাটি লিভার বাড়বে না। এটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক। জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হবে। এর মধ্যে খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটাচলা এগুলো করতে হবে। আর কিছু বিষয় দেখতে হবে। দেখতে হবে তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না। পারিবারিক ইতিহাস অবশ্যই একটি ভূমিকা পালন করে। স্থূলতা এ ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা পালন করে। তাই স্থূলতা যদি থেকে থাকে কিংবা ডায়াবেটিস যদি থেকে থাকে, থাইরয়েড হরমোন যদি থেকে থাকে এসব বিষয় আমাদের নোটিশ করতে হবে। এগুলোর চিকিৎসা আমাদের করতে হবে। ফ্যাটি লিভার একটি বিষয়, যার চিকিৎসা করলে ভালো থাকে। যেহেতু চিকিৎসা করলে ভালো থাকা যাবে, তাহলে কেন শুধু শুধু আমি জটিল করব জিনিসটাকে।

প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

উত্তর : আমাদের পরামর্শ থাকবে, আপনাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করবেন, যাদের ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা থাকে, তারা নিয়মিত হাঁটাচলা করবেন। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। আপনারা সব সময় একজন লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে তাঁর পরামর্শ নেবেন। একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আরেক বছর যাবেন না, সেটি হয় না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকা আমি জরুরি বলে মনে করি।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement