Beta

শুটিং সন্দেশ

অপূর্ব-শিমুর ‘লেক ড্রাইভ লেন’

২৩ এপ্রিল ২০১৫, ১৭:৫৬ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৫, ১০:৩৬

অভিনেতা অপূর্ব অসুস্থ। শুটিং সেটে ইউনিটের একটি ছেলেকে ডেকে বললেন, ‘ওষুধ আনাতে পারবে? খুব মাথাব্যথা করছে।’ গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার উত্তরায় একটি শুটিং বাড়িতে এনটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘লেক ড্রাইভ লেনের’ শুটিং করছিলেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব ও অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। অসুস্থ শরীর নিয়ে অপূর্ব অভিনয় করলেও সুমাইয়া শিমু সুস্থ হয়েও অসুস্থ চরিত্রে অভিনয় করছেন। নাটকের ৩৫তম দৃশ্যে দেখা যাবে, অপূর্ব অসুস্থ সুমাইয়া শিমুকে দেখতে তাঁর বাসায় গেছেন। অপূর্ব সংলাপ দিচ্ছেন এভাবে, ‘এখন কেমন আছো?’ সুমাইয়া উত্তর দিলেন, এই তো ভালো..সবকিছু কোথা থেকে কেমন যেন হয়ে গেল, আবীর ভাই।’

পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজু একবারে শটটি ওকে করেননি। পরপর দুবার শট নেওয়ার পর তিনি কাট বললেন। তারপর সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দিতে শুরু করলেন। আলাপের মাঝে আবীর চরিত্রটি কী রকম প্রশ্ন করতেই অপূর্ব উত্তর দিলেন, ‘চরিত্রটির সঙ্গে আমার একটি মিল আছে। আমি একসময় অনেক ছবি আঁকতাম। এখানে আবীর চরিত্রটিও একজন চিত্রশিল্পীর। আর মজার ব্যাপার হলো ১১ বছর পর আমি আবারও জলরং দিয়ে ছবি আঁকছি।’

অপূর্বের কথা শেষ করতেই সুমাইয়া শিমু অবাক হয়ে তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘১১ বছর পর! তুমি ছবি আঁকো না কেন?’ এবার অপূর্ব উত্তর দিলেন, ‘কেন তোমার বিশ্বাস হয় না! ১১ বছর পর আমি ছবি আঁকছি? আমার গাড়িতে ছবি দুটো রাখা আছে।’

ছবির প্রসঙ্গ চাপা পড়তেই পরিচালককে প্রশ্ন করা হলো, কেমন চলছে ‘লেক ড্রাইভ লেন’? তৃপ্তির হাসি মুখে নিয়ে পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজু বললেন, ‘অনেক ভালো চলছে। এতটা প্রত্যাশাও করিনি।’ নাটকটি রচনা করেছেন মেজবাহ্ উদ্দিন সুমন।

‘গল্পটার মধ্যে অনেক নাটকীয়তা আছে। আমার শিল্পীরা প্রত্যেকে অনেক দায়িত্বশীল। তাই নাটকটি নির্মাণ করে আরাম পাচ্ছি।’

নাটকের মান ভালো না- এমন দাবি এখন অনেকেরই। এর মূল কারণটা কী? এমন প্রশ্ন শুনে নজরুল ইসলাম রাজু, অপূর্ব, সুমাইয়া শিমু একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘এখনকার বেশির ভাগ নাটকের চিত্রনাট্য অনেক দুর্বল।’

অপূর্ব যোগ করে বললেন, ‘নাটকের চিত্রনাট্যের গাঁথুনি মজবুত হলে দুজন শিল্পী নিয়েও কাজ করা সম্ভব। আমার মনে আছে বছর দুয়েক আগে আমি আর শিমু ‘ইডিয়ট’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছি। আমরা সকাল ১০টায় শুটিং শুরু করেছি আর রাত ১ টায় শুটিং শেষ করেছি। একদিনে আমরা এক খণ্ডের নাটক শেষ করেছি। নাটকের মূল শিল্পী আমরা দুজনেই ছিলাম। ঈদে নাটকটি প্রচারের পর অনেক সাড়া পেয়েছি আমরা’।

আলাপচারিতা থামার কোনো লক্ষণ ছিল না। কিন্তু পরিচালক আলাপ থামিয়ে দিয়ে  বললেন, লাইট রেডি। আমরা এখন শটে যাব। অপূর্ব ও শিমু শট দিতে চলে গেলেন। আমরা পুরো টিমকে বিদায় জানিয়ে আমাদের কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিলাম।

Advertisement