Beta

কেন এফডিসিতে পালিত হয় না হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী?

১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:২২ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৫

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই। এ উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পড়া হয়। দুস্থ-এতিম বাচ্চাদের খাওয়ানো হয় সেখানে।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া পড়ানো হয়। একই রকম আয়োজন থাকে তাঁর বাবার বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। হুমায়ূনভক্তরা সারা দেশে বিভিন্নভাবে পালন করেন এই বিশেষ দিনটি। তবে এফডিসিতে থাকে না কোনো আয়োজন। কেন এফডিসিতে পালিত হয় না হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘আমরা কোনো পরিচালকের জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী এফডিসিতে পালন করি না। সেই হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতেও আমাদের কোনো আয়োজন নেই। কারণ, হুমায়ূন আহমেদের মতো আমাদের অনেক গুণী নির্মাতা প্রয়াত হয়েছেন। আমরা যদি সবার জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করি, তবে সারা বছরই কোনো না কোনো পরিচালকের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে থাকতে হবে। তাই আমরা প্রতিবছর রোজায় একটি ইফতার পার্টি করে থাকি। সেদিন সকাল থেকে কোরআন খতম করি, পাশাপাশি প্রয়াত পরিচালকদের জন্য দোয়া পড়াই।’

খোকন আরো বলেন, ‘তবে আমাদের অনেক গুণী পরিচালক আছেন, যাঁদের সৃতি সংসদ রয়েছে, আবার অনেকেই পারিবারিকভাবে দিবস পালন করেন। তাঁদের কেউ যদি এফডিসিতে অনুষ্ঠান করে দিনটি পালন করতে চান, তবে আমরা পরিচালক সমিতি সার্বিক সহযোগিতায় থাকব। অনুষ্ঠান সার্থক করতে সব ধরনের সহযোগিতা করব আমরা।’

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার ও গীতিকার। আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ বলা হয় তাঁকে। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

সত্তর দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। তাঁর সৃষ্ট হিমু এবং মিসির আলী ও শুভ্র চরিত্রগুলো বাংলাদেশের তরুণদের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে ওঠে।

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকপ্রিয়তা পায়। তবে তাঁর টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তাঁর রচিত গানগুলোও জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি।

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত উল্লেখ্যযোগ্য চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।

২০১১ সালে তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। দেশ ও দেশের বাইরে অনেক চিকিৎসার পরও সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারা যান কিংবদন্তি এই লেখক। নুহাশপল্লীর লিচুতলায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Advertisement