শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মায়ের চরিত্রে দিলারা জামান

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৪৪

‘ওমর ফারুকের মায়ের চরিত্রটি তো আসলে চরিত্র না। এটা একটা বাস্তব ইতিহাস। জীবন্ত কিংবদন্তি ওমর ফারুকের মা। যিনি নব্বই-বিরানব্বই বছরের একজন মা। এখনো তাঁর সন্তানের প্রতীক্ষায় আছেন। এটা যেমন একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার, তেমনি অবিশ্বাস্য সত্যিও বলা যায়। এখনো তিনি দরজাটা সব সময় খুলে রাখেন যে তাঁর ছেলে ফিরবে। ভাবা যায়!’ কথাগুলো বলছিলেন অভিনেত্রী দিলারা জামান। গতকাল রোববার ‘ওমর ফারুকের মা’ শীর্ষক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সেখানে ছবির পরিচালক এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লবসহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলী উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য ‘ওমর ফারুকের মা’ আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের আপন ছোট বোন সালমা রহমান হ্যাপি। একাত্তরে ২১ বছরের তরুণ ছিলেন ওমর ফারুক। ছিলেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি। যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, রাতে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবেন। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাতে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তাঁর কাছে বাংলাদেশের সাতটি পতাকা পায় পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয় ফারুকের। হাতুড়িপেটা করে একটি পতাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তাঁর মাথায়। শহীদ ওমর ফারুকের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় কীর্তনখোলার জলে।

এরপর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা। মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাঁড়িতে ভাত বসান, রাতে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়। ছেলে আসবে, সেই বিশ্বাস এখনো পুষে রেখেছেন নব্বই ঊর্ধ্ব বয়সী ওমর ফারুকের মা। 

ওমর ফারুকের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান। চরিত্রটির গভীরতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওমর ফারুকের বোনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তাঁর মাকে অন্যান্য সন্তান কোথাও নিয়ে যেতে পারে না। কোথাও নিয়ে গেলেও সেখানে এখনো দরজা খোলা রাখতে হয়। কারণ তার মা মনে করেন, দরজা বন্ধ করে ঘুমালে ওমর ফারুক যদি এসে ফিরে যায়! এখন বোঝেন, সন্তানের জন্য একজন মায়ের কী রকম কষ্ট! আমার তো চোখ ভিজে যায় এ রকম গল্প শুনে। ওমর ফারুকের মায়ের রক্তের কণায় কণায় যে বিশ্বাস, ছেলে ফিরবে। এটা আমি জানি না কীভাবে ফুটিয়ে তুলব।’

চরিত্রটিকে গোটা অভিনয় জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জানিয়ে দিলারা আরো বলেন, ‘আমি জানি না, এমন তীক্ষ্ণ আর দৃঢ় একটি চরিত্র আমি কীভাবে ফুটিয়ে তুলব! কঠিন একটি চরিত্রের চ্যালেঞ্জ এখন আমার সামনে। বিশ্বাসযোগ্য করে পর্দায় তুলতে পারি কি না, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া ওমর ফারুকের মা এখনো জীবিত।’

বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন আর দূরে কোথাও শুটিংয়ে যান না দিলারা জামান। কিন্তু ‘ওমর ফারুকের মা’র মতো ছবিতে কাজ করতে পিরোজপুর যাচ্ছেন তিনি। কেন যাচ্ছেন, তার কারণ জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার শরীরও খুব বেশি ভালো না। এখন আর আগের মতো দূরে কোথাও শুটিং হলে যেতে পারি না। কিন্তু ‘ওমর ফারুকের মা’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি করতে আমি পিরোজপুর যেতে রাজি হয়েছি। কাজ তো অনেকই করি, আমার মনে হয়েছে মৃত্যুর আগে একটা ভালো কাজ করে যেতে চাই। যে কাজগুলোর জন্য মানুষের মনে বেঁচে থাকা যাবে।”

সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য ‘ওমর ফারুকের মা’ স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে ওমর ফারুকের চরিত্রে সাঈদ বাবু। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে বন্যা মির্জা, শাহেদ শরীফ খান, খাইরুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, সালমা রহমান, আইনুন পুতুল, রিপন চৌধুরী, কাজী রাজু, সৈয়দ শুভ্র, মুকুল সিরাজ, এ বি এম মোতাহারুল ইসলাম, প্রণব ঘোষ, রোশেন শরিফ ও তুহিন আহমেদকে।

ছবিটির শুটিং শুরু হবে এই সেপ্টেম্বর মাসেই।