Beta

এফডিসিতে আজীবন কোরবানি দেবেন পরী মণি

২০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫২

‘আমি ছোট একটা টিনশেড বাসায় থাকি। এলাকার মানুষ অনেক সম্মান করে। কারণ, আমি বিলকিস বারির মেয়ে। আমার মা বাংলাদেশের প্রথম সিনেমায় (মুখ ও মুখোশ) কাজ করেছেন। আমি নিজেও অভিনয় করি, তবে ছোট চরিত্রগুলোতে। ছোট চরিত্র এখন আর তেমন প্রয়োজন হয় না ছবিতে। যে কারণে আমার মতো কয়েকশ শিল্পীর কাজ নেই বললেই চলে। কোরবানি দিয়েছিলাম প্রায় ১০ বছর আগে। এর পরে আশপাশের বাসা থেকে কিছু মাংস দিয়ে যেত, তা দিয়েই ঈদ করেছি। লজ্জায় মানুষের বাসায়ও আর মাংস আনতে যেতে পারি না। তবে দুই বছর ধরে পরীর দেওয়া কোরবানির মাংস খাচ্ছি। এফডিসিতে গিয়ে মাংস আনতে আমাদের কোনো লজ্জা নেই, বরং গর্ব হয়। ছোট হলেও আমরা শিল্পী। আমাদের কথা চিন্তা করে যে মেয়েটি নিজের বাড়ি না গিয়ে এফডিসিতে ঈদ করে, আল্লাহ তুমি এই মেয়েটিকে হাজার বছর বাঁচাইয়া রাইখো।’ এফডিসিতে নায়িকা পরী মণির কোরবানি নিয়ে এসব কথা বলেন প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী বিলকিস বারির মেয়ে বুলু বারি।

দুই বছর ধরেই ঈদুল আজহার সময় অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য এফডিসিতে কোরবানি দেন নায়িকা পরী মণি। নিজে উপস্থিত থেকে নিজের হাতেই কোরবানির মাংস তুলে দেন সবার হাতে। পরী বলেন, ‘যখন মাংস হাতে নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন আমাদের শিল্পীরা, বুকটা কান্নায় ভিজে যায়। মনে হয় আমার জীবনটা সার্থক। সিনেমায় তো আর সবাই নায়ক-নায়িকা হবে না, ছবিতে কাজের বুয়ার চরিত্রেও শিল্পীর প্রয়োজন। যেহেতু তাঁরা অনেক কম টাকা পান, তাই কোরবানি দিতে পারেন না। তাঁদের দায়িত্ব তো আমাদেরই নিতে হবে।’

যত দিন সামর্থ্য আছে, তত দিন কোরবানি দিয়ে যাবেন বলে জানান পরী। তিনি বলেন, ‘পরিবারের জন্য সবাই সবকিছু করে, আমি কেন করব না। যত দিন আমার সামর্থ্য আছে, তত দিন আমার পরিবারের জন্য কোরবানি দেবো। আমাকে সবাই যদি নায়িকা হিসেবে চেনে, তাহলে চলচ্চিত্রই তো আমার পরিবার। পিরোজপুরে নানাভাই কোরবানি দেন। সেখানে তো আমি এখনো ছোট মানুষ, যে কারণে আমাকে কোরবানি দিতে দেন না।’

শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন পরী। কোনো ছবি মুক্তির আগেই ২৩টি চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরই মধ্য ২১টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে তাঁর।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement