Beta

ভালোবাসায়, অর্জনে ১৬তম বছরে এনটিভি

০৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০৩ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৮, ১১:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্মদিন। শুভ জন্মদিন। ‘সময়ের সাথে আগামীর পথে’ স্লোগান নিয়ে এনটিভির জন্ম। আর এই আগামীর পথে একটু একটু করে চলতে চলতে ১৫টি বছর সাফল্যের সঙ্গে পার করল বেসরকারি এই স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। আজ ১৬ বছরে পদার্পণ করল এনটিভি।

এই পথচলায় এনটিভি কুড়িয়েছে অগণিত দর্শকের ভালোবাসা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। দর্শকের অবিরাম তথ্য ও বিনোদনের চাহিদা পূরণ, দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা ও রুচিশীল বিনোদনের মাধ্যমে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এনটিভির অন্যতম প্রয়াস।

আজ ৩ জুলাই মঙ্গলবার এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। শুভকামনা জানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, ক্রীড়াবিদসহ অনেকেই। দেশ-বিদেশের অগণিত দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী।

শুরু থেকেই আধুনিক সম্প্রচার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করে এনটিভি। আর এ ক’বছরে শব্দ, ছবি আর সম্প্রচারে অন্য চ্যানেলের সঙ্গে রাতারাতি একটা বড় পার্থক্য তৈরি করে নিয়েছে চ্যানেলটি। প্রযুক্তির বিস্ময়ের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিতে এনটিভি খুব বেশি সময় নেয়নি।

এদিকে, দেশে-বিদেশে ব্যাপ্তি আর সম্প্রচার সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেলের অনুষ্ঠানে আসে বৈচিত্র্য। গড়ে উঠেছে এনটিভির নিজস্ব একটি চরিত্র। যার নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত পরিচালনা ও কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম।

দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে এনটিভি : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশি সংস্কৃতি তুলে ধরতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে এনটিভি। এনটিভির সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, কলাকুশলী, সংবাদকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘টেলিভিশন জনপ্রিয় গণমাধ্যম। দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন জনসমক্ষে তুলে ধরতে টেলিভিশনের জুড়ি নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে টেলিভিশন শুধু খবর ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারেই সীমিত নেই। একই সঙ্গে জাতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে জোরালো ভূমিকা পালন করে।’

‘দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিত্যদিনের খবরাখবর জানানোর পাশাপাশি এনটিভি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।’

রাষ্ট্রপতি আরো উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহে বিশ্বাসী। অবাধ তথ্যপ্রবাহের পরিবেশ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক বেশি।’

এনটিভির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি : প্রধানমন্ত্রী

দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি ১৫তম বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি এনটিভির পরিচালনা পর্ষদ, সাংবাদিক, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ ও অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই। যা ছিল গণমাধ্যমের বিকাশে এক স্বর্ণালি অধ্যায়।’

‘এ সময়ে ৪৬টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতির ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের পাশাপাশি সুগম করা হয়েছে সুস্থ বিনোদনের পথ। সংবাদপত্রের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করছি। আমরা কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও লাইসেন্সিং বিধিমালা প্রণয়ন করছি। আমাদের এ পদক্ষেপের ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ আরো বিস্তৃত হয়েছে। দেশের গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।’

এনটিভি যাত্রাকাল থেকেই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে আছে : তথ্যমন্ত্রী

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, কলাকুশলীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এনটিভি তার যাত্রাকাল থেকে একটা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে আছে, সেটা হচ্ছে তারা অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যসমৃদ্ধ একটি সম্প্রচার কেন্দ্র।’

‘আমি এনটিভিকে, এনটিভির কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাব, বাংলাদেশ আজকে যে পর্যায়ে আছে—সুশাসনের বাংলাদেশ, সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশে এনটিভি যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়,’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

আশা করি, আগামীতেও সবাইকে পাশে পাব : চেয়ারম্যান

এনটিভির জন্মদিনে সম্মানিত দর্শক, ক্যাবল অপারেটর, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী। পাশাপাশি তিনি এই দীর্ঘ চলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, শিল্পী-কলাকুশলী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এনটিভির চেয়ারম্যান শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের চাহিদামতো যে ধরনের অনুষ্ঠানের কথা আপনারা বলবেন, যে ধরনের নিউজ আপনারা নিরপেক্ষভাবে দেখার চেষ্টা করবেন, তা আমরা করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।’

এরই মধ্যে এনটিভির সংবাদ এবং অনুষ্ঠান বিভাগ সুন্দরভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে জানিয়ে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে আমার এই পরিবারে সদস্য যাঁরা আছেন, তাঁরা এই যে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, এই পরিশ্রমের ফলে আগামী দিনগুলোতে আপনাদের প্রিয় চ্যানেল এনটিভি ইনশাআল্লাহ আপনাদের মতো করেই বাংলাদেশে এক নম্বর চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আমি আশা করি, আগামী দিনগুলোতে আপনাদের সবাইকে এভাবেই পাশে পাব।’

দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা

এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এসব অনুষ্ঠান। 

অনুষ্ঠান শুরু হবে ভোর সোয়া ৬টায় সংকলিত অনুষ্ঠান ‘উৎসবে আনন্দে’ দিয়ে। শেষ হবে রাত সাড়ে ১২টায় বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ‘হৃদয় আমার নাচেরে’র মধ্য দিয়ে।

এর মাঝে এনটিভির পর্দায় থাকবে চলচ্চিত্র, নাটক, গানের অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান।

দুপুরে দেশের গুণীজনদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হবে এনটিভির তেজগাঁও স্টুডিওতে।

এ ছাড়া ‘আজকের টেলিভিশন’ আর ‘১৬ বছরে এনটিভি’ শীর্ষক দুটি আলোচনা অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম নিয়ে কথা বলবেন দেশের  প্রথিতযশা ব্যক্তিরা।  

এনটিভি সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য

গত ১৫ বছরে এনটিভি নানাভাবে এগিয়েছে। এ সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলটির সবচেয়ে বিশেষত্বের জায়গা হলো এর খবর।

ঝকঝকে স্পষ্ট ছবি তোলার কাজটি সারছেন এনটিভির চিত্রগ্রাহকরা। আর তা যথাযথ সম্পাদনার মাধ্যমে, প্রচারযোগ্যের কাজটি করেন ভিডিও এডিটররা।

আদর্শ টিভি চ্যানেলের মানদণ্ড ধরে রেখে তা চূড়ান্তভাবে প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজকরা। অ্যানিমেশন, গ্রাফিকস কার্ড তৈরি করে সংবাদ বা অনুষ্ঠান সমৃদ্ধ করার কাজটি চলে এনটিভির গ্রাফিকস বিভাগে।

উপস্থাপনার আঙ্গিকে এবং অবশ্যই প্রযুক্তিতে অন্যসব চ্যানেলকে মুহূর্তেই পেছনে ফেলে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠান এখনো অব্যাহত রেখেছে তার এগিয়ে চলা।

নেপথ্য এই কর্মমুহূর্ত প্রমাণ করে এনটিভির নিবিড় নিষ্ঠার কথা। এই পথচলায় রয়েছে অসংখ্য মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা আর দিন-রাতের পরিশ্রম। বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা সমাধানে জরুরি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এনটিভির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ। যাবতীয় কাজের নেপথ্যে নীরব সহায়কের ভূমিকা পালন করে আসছেন তাঁরা।

এনটিভি সঞ্চালনায় অনেকটা দায়িত্ব বর্তায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ওপর। টাকা-পয়সার সব খুঁটিনাটি হিসাবের গুরুদায়িত্ব পালন করে এনটিভির অর্থ ও হিসাব বিভাগ।

প্রথম থেকেই এনটিভির পর্দার প্রশংসা করে এসেছেন আপামর দর্শক। আর সেই কাজটার ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রেখে চলেছেন একাধারে এনটিভির ব্রডকাস্ট, আইটি, এমসিআরসহ অন্যরা।

‘সময়ের সাথে আগামীর পথে’ চলার শপথ নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ প্রযুক্তির সঙ্গে হেঁটেছে এনটিভি। এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র চ্যানেল, যেখানে ম্যাকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ফর্ক অটোমেশন দিয়ে স্টেশন পরিচালিত হয়। সিএনএন বা সিবিএস নিউজ এমন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ইভেন্টের ফুটেজ সংরক্ষণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ আর্কাইভের দাবিদার এনটিভি। টেপ ছাড়াও যেখানে সংযুক্ত হয়েছে সার্ভারভিত্তিক ডিজিটাল ফুটেজ সংরক্ষণ ব্যবস্থা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এনটিভিতে যোগ হয়েছে মেমোরি কার্ডভিত্তিক অত্যাধুনিক ক্যামেরা।

বলা হয়ে থাকে, টেলিভিশন ওয়ানটাইম ইউস মিডিয়া, অর্থাৎ পর্দায় একবার  যা দেখানো হয়ে যায়, তা আর টেনে দেখার সুযোগ নেই। তবে এনটিভির এ সীমাবদ্ধতা দূর করেছে এনটিভি অনলাইন। দেশের প্রথম ভিডিও কনটেন্ট সমৃদ্ধ অনলাইন পোর্টাল। একঝাঁক নিবেদিত কর্মীবাহিনীর নিরন্তর পরিশ্রমের ফলে এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পোর্টালে পরিণত হয়েছে ntvbd.com। এর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সরাসরি দেখা যাচ্ছে এনটিভি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এনটিভি অনলাইনের ঝুলিতে জমা হয়েছে ইউটিউবের ছয়টি পুরস্কার।

দর্শক, শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এনটিভি এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে—বর্ষপূর্তির শুভক্ষণে এমনই প্রত্যাশা।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement