Beta

বুয়েটের দেয়ালে প্রতিবাদের বয়ান

১২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৬

মাসুদ রায়হান পলাশ
বুয়েটের দেয়ালে আবরার ফাহাদকে নিয়ে গ্রাফিতি। ছবি : এনটিভি

দুইটি পায়ের ছবি। লাশের দুইটি পা। পায়ের একটি আঙ্গুলে সুতো দিয়ে নম্বর ঝোলানো। ওই নম্বর দিয়েই শনাক্ত করা হয় লাশ। সাদা দেয়ালে কালো রঙের তুলিতে আঁকা লাশের দুইটি পা এখন প্রতিবাদের চিহ্ন।

বুয়েটের দেয়ালে দেয়ালে এখন এসব চিত্র। বুয়েটের শিক্ষার্থীরাই এসব গ্রাফিতি আঁকছেন। বুয়েটের দেয়ালগুলো গত দুইদিন ধরে পরিষ্কার করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার রঙ লাগল এসব দেয়ালে। সাদা দেয়ালে কখনো কালো কখনো লাল রঙের আঁচড়। আর তাতে ফুটে উঠেছে আবরার ফাহাদ। বুয়েটের দেয়ালে দেয়ালে এখন কেবলই আবরার। এসব গ্রাফিতি দেখতে ভিড়ও জমেছে দিনভর।

এসব গ্রাফিতিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের নানা দিক ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গ্রাফিতি আঁকা দেখতে দেখতে বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন বলে উঠলেন, ‘ক্যাম্পাস এখন আবরার ফাহাদের দখলে। বুয়েট ক্যাম্পাস এখন আববারময়। ইট, পাথর আর মাটি সবখানেই আবরার ফাহাদ। আবরার ফাহাদ একটি পরিবর্তনের নাম!’

আজ শনিবার দুপুর ১টা থেকে আঁকাআঁকি শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পুরো ক্যাম্পাসে অন্তত ৩০জন শিক্ষার্থী ২৪টি দেওয়ালে এসব গ্রাফিতি আঁকছেন। বুয়েটে শহীদ মিনারের পাশে অর্থাৎ তিতুমির হল এবং শেরেবাংলা হলের সামনের রাস্তার দেওয়ালে গ্রাফিতি আঁকছেন এমন ১০জনকে দেখা যায়। এদের ভেতরে তিনজনের সঙ্গে কথা হয় এনটিভি অনলাইনের।

বুয়েটের শহীদ মিনারের পাশের দেয়ালে আঁকাআঁকির নির্দেশনা দিচ্ছেন ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রীতু প্রভা দেবনাথ। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন,  ‘পুরো ক্যাম্পাসের ভেতরে মোট ২৪টি দেওয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। অন্তত ৩০জন শিক্ষার্থী গ্রাফিতি আঁকতে অংশ নিয়েছেন। এরা কেউ-ই প্রকৃত শিল্পী নয়, তবে সবাই খুবই ভালো আঁকছেন। সবই আবারারের প্রতি ভালোবাসা।’

রীতু প্রভা দেবনাথ আরো বলেন,  ‘গত দুইদিন ধরে আমরা দেয়ালগুলো পরিষ্কার করেছি। আজ দুপুর একটা থেকে আমরা আঁকাআঁকি শুরু করেছি। এই দেয়ালেই বেশি শিক্ষার্থী এক সাথে আঁকা শুরু করেছেন। এখানে শেষ হলে আমরা অন্য দেয়ালে কাজ শুরু করবো। এছাড়া ২৪টি দেয়ালেই দু-একজন করে কাজ করছেন।’

স্বাধীন আহমেদ নামের একজন শিক্ষার্থীকে আবরারের পা আঁকতে দেখা যায়্। আবরারকে পিটিয়ে হত্যার পর স্ট্রেচারে রাখা হয়। তখন ঠিক যেভাবে তাঁর পা রাখা ছিল সেভাবেই পায়ের পাতার নিচের অংশটা এঁকেছেন। আঁকার সময় স্বাধীন বলেন, ‘এই পা আঁকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কি যে কষ্ট হচ্ছে তা আপনি বুঝবেনই না। আবরার আমার বন্ধু। এক সঙ্গে কত সময় পার করেছি। আর আজ তার গ্রাফিতি আঁকি।’

Advertisement