Beta

রাবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি, আহত ৭

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫২

রাবি সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ছবি : এনটিভি

আবাসিক হলের গেস্ট রুমে বসাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কর্মীকে বর্তমান কমিটির দুই কর্মী মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদ করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের আরও ছয় কর্মী। আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ্ হলে ওই ঘটনা ঘটে।

দুই দফা মারধরে একজনের কপালে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর কপালে দুটি সেলাই পড়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের অমিত হাসান লিমন, দর্শন বিভাগের একরাম হোসেন রিওন, মারুফ পারভেজ, রনি, জসিম, লোক প্রশাসন বিভাগের সোহেল, ইতিহাস বিভাগের রাজিব। তাঁরা সবাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী।

রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, আরিফ বিন জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক, ছাত্রলীগ কর্মী সাইমুন, বর্ণ, সুব্রত ও কামরুল মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগকর্মী কামরুলসহ দুজন বসেছিলেন। এ সময় অমিত হাসান লিমন তাঁর তিন বান্ধবীকে নিয়ে গেস্টরুমে যান। তিনি কামরুল ও তাঁর বন্ধুকে গেস্টরুম থেকে চলে যেতে বলায় কামরুল ক্ষিপ্ত হন। তাঁদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কামরুল ও তাঁর বন্ধু মিলে লিমনকে মারধর করে। এতে লিমনের কপাল কেটে যায়। পরে লিমনকে তার বন্ধুরা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

এর পরপরই বাকির অনুসারী প্রায় অর্ধশত কর্মী মাদার বখশ্ হলে গিয়ে কামরুলের রুমের দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে এবং রুমের জানালা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে বর্তমান কমিটির দুই শতাধিক নেতাকর্মী হলের সামনে এসে অবস্থান নেন। এসময় বাকির কয়েকজন অনুসারীকে তারা মারধর করে।

প্রতিপক্ষকে মারধরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও ছাত্রলীগের সভাপতি, সম্পাদক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় হলের আশেপাশে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়ন ছিল।

ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, ‘২০১৬ সালে আমি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলাম। তবে আমি শাখা ছাত্রলীগে কোনো পদ পাইনি। গত তিন বছর হলো মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির এই নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন করছে।’

তবে আহতরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘গেস্টরুমে বসা নিয়ে কামরুল ও লিমনের মধ্যে সামান্য ঝামেলা হয়েছিল। একপর্যায়ে সম্ভবত তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিমন ছাত্রলীগকর্মী নন। সংগাঠনিক কার্যক্রমে কখনোই আমরা তাকে দেখিনি।’ তবে হলের বাইরে অপর ছয়জনকে মারধরের বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে সাংবাদিকদের জানান।

মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘কামরুল ও লিমন দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আমি এখন ঢাকার পথে আছি। ঘটনাটি জানার পর হলে পুলিশ পাঠানোর জন্য বলেছি।’

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘হলে গেস্টরুমে বসা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে শুনে আমি ঘটনাস্থলে আসি। আমি হল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

Advertisement