Beta

রাব্বানীর ‘প্রটোকলে’ না যাওয়ায় হলের কক্ষে তালা

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৮

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ‘প্রটোকলে’ না যাওয়ায় তাঁর অনুসারীরা হলের চারটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে এ ঘটনা ঘটে।

তালাবদ্ধ কক্ষগুলো হচ্ছে- ২৪৮, ২৩৭, ৪০১ (ক) ও ৬২৬ (ক)। এসব কক্ষে হলের দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ৩৪ জন শিক্ষার্থী থাকেন বলে জানা যায়।

সূর্যসেন হলে গোলাম রাব্বানীর অনুসারী সৈয়দ শরীফুল আলম শপুর নেতৃত্বে ওই চারটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল রোববার দুপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মধুর ক্যান্টিনে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর সমর্থক সূর্যসেন হলের সৈয়দ শরীফুল আলমের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা রাব্বানীকে ‘প্রটোকল’ দিতে মধুর ক্যান্টিনে যায়নি। এ কারণে রাত ১০টার দিকে শপুর নির্দেশে শিক্ষার্থীদের চারটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গত শনিবার গণভবনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর একদিন না যেতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সূর্যসেন হলের ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, হলে সিট পাওয়ার আশায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সিট পাননি। তাই রোববার তাঁরা ইচ্ছা করে রাব্বানীর ‘প্রটোকলে’ যাননি। তাই রাতে তাঁদের কক্ষগুলোতে তালা দেওয়া হয়। তাদের বলা হয়, যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেতে।

এ বিষয়ে শরীফুল আলম শপু এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। তাই তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা রুম তালাবদ্ধ করে। পরে তাদের ঝামেলা মিটিয়ে দিয়ে রুম খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আমি জানিই না। আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’

গোলাম রাব্বানীর জন্য মধুর ক্যান্টিনে না যাওয়ার কারণে তালা মেরে দেওয়ার বিষয়টি শরীফুল অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেনি।

হলের চারটি কক্ষে তালা দেওয়ার বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement