Beta

রাবিতে ৭ বছর আগের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ!

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৩

রাবি সংবাদদাতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সেকশন অফিসার পদে সাত বছর আগে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১২ সালের ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন করা এক হাজার ৯২ জন প্রার্থীকে সাত বছর পর হঠাৎ করেই মৌখিক সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে সাক্ষাৎকার।

প্রশাসনের এ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাঁরা বলছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পার হলে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। সাত বছর আগের বিজ্ঞপ্তি এখন আর বৈধ নেই। এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২৫ হতে হবে উল্লেখ করে ২০১২ সালের জুলাইয়ে সেকশন অফিসারের আটটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ওই সময় উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আবদুস সোবহান।

এরপর উপাচার্য পদে অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দীন ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিষ্প্রয়োজন হওয়ায় ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

গত সাত বছরে সেকশন অফিসার পদের ৫০টি পদ শূন্য হয়। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও অধ্যাপক আবদুস সোবহান উপাচার্যের দায়িত্ব পান।

গত মঙ্গলবার অধ্যাপক আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮৮তম সিন্ডিকেট সভায় তৃতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়। এর পরই উপাচার্যের আগের মেয়াদে দেওয়া বিজ্ঞপ্তির আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাত বছর আগে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অনেকের চাকরির বয়সসীমা নেই। অনেকেই আবার বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করছেন। একদিকে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো ও আরেকদিকে পুরোনো বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগের বিষয়টি অনেক শিক্ষকই নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

আবেদনের অনেক দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ডাক আসেনি। এত দিন পর হঠাৎ সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পাওয়াতে বেশ বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান একজন আবেদনকারী।

পুরোনো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নেতিবাচক বলে জানান সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘যাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, তাদের কারো কারো বয়স পার হয়ে গেছে। কাজের জন্য কম বয়সের লোক দরকার। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় উপকৃত হবে। কিন্তু বেশি বয়সের লোকদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরাই উপকৃত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় নয়।’

সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘এভাবে নিয়োগ দেওয়া স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না। নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পেরিয়ে গেলে আবার বিজ্ঞপ্তি দিতে হয় এবং আগের প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে না উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সে রকম কিছু করা হয়নি।’

এ বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুস সোবহানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Advertisement