ইবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি

০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:০৯ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:১২

ইবি সংবাদদাতা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। ছবি : এনটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

বিভাগ দুটির ভর্তি পরীক্ষা থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট আইন ও শরিয়াহ অনুষদভুক্ত আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৯ আগস্ট থেকে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবরোধ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আল-ফিক্হ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, আইন ও শরিয়াহ অনুষদভুক্ত বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা থিওলজি অনুষদের মাধ্যমে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আল-ফিকহ বিভাগে আইন বিভাগের সমপরিমাণ আইন সম্পর্কিত কোর্স পড়তে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এটি আল-ফিকহ বিভাগকে থিওলজি অনুষদভুক্ত বিভাগে রূপান্তরিত করার হীন চক্রান্ত। আমরা প্রশাসনের কাছে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাই। অন্যথায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি ড. এ কে মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি। আগামীকাল আমরা বিষয়টি নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করব।’

এদিকে, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত বিষয়গুলো ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কিত। কিন্তু আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ সাহিত্য সম্পর্কিত। সাহিত্যের সঙ্গে ধর্মতত্ত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদের অধীনেই আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। সুতরাং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন অনুষদে নেওয়া হবে কেন, এটাই তাদের প্রশ্ন।  

এ সময় ভর্তি পরীক্ষা মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে বহাল রাখার জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সোমবার আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সমাধানের জন্য অনুষদের ডিন বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়।

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সঙ্গে  আরবি ভাষা ও সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অন্য কোনো অনুষদের অধীনে গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের শিক্ষকদের সঙ্গেই কথা বলা। তাদের শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। বিষয়টি বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমেই লিখিতভাবে জানাতে হবে। যদি একান্তই সমস্যা হয় তবে সমাধান করা হবে।’