Beta

এবার মাঠে নামলেন ঢাবির সচেতন শিক্ষক সমাজ

২২ জুলাই ২০১৮, ১৫:২৭ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫০

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক সমাজ আজ রোববার কলা ভবনের সামনে সমাবেশ করে। ছবি : ফোকাস বাংলা

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও তাঁদের পক্ষে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের দাঁড়ানোর ঘটনায় এবার মাঠে নামলেন আওয়ামী লীগপন্থী সচেতন শিক্ষক সমাজ। তারা আলোচনার মাধ্যমে কোটা আন্দোলন বিষয়ের সমাধান করে, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সচেতন শিক্ষক সমাজ আজ রোববার সকালে কলা ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপপ্রয়াস বন্ধের আহ্বান জানায়। শিক্ষকরা বলেন, কোটা আন্দোলনের দাবি যৌক্তিক এবং এই প্রক্রিয়ার অবশ্যই সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু আন্দোলনের নামে একটি মহল ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। যা, রাষ্ট্রীয় ফায়দা হাসিলের অপপ্রয়াস উল্লেখ করে, চিহ্নিত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষকরা।   

গত ১৯ জুলাই তারিখে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এসব কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কলা ভবনের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উসকিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। গত ১৯ তারিখে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকদের কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রেখেছেন। আয়োজকরা এর প্রতিবাদ না করে অনেকে হাততালি দিয়েছেন। তখন আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না এরা কারা। অপ্রাসঙ্গিক ইস্যু এনে বঙ্গবন্ধুকে আক্রমণ করা হচ্ছে। তারা তারেক জিয়ার ভাষায় বক্তব্য রাখছেন।

মাকসুদ কামাল বলেন, কোটার নামে নিপীড়নের নামে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা বা কটাক্ষ করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এসব কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় মাকসুদ কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র যদি অন্যায়ভাবে কারাগারে থাকে তাঁকেও ছাড়িয়ে নিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রশাসনের কাছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, আর দুই বছর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন করবে। আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা মর্যাদার জায়গা রাখতে চাই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল রাখতে আমরা সবাইকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিদের উচিত হবে না বিরোধীদের কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকসমাজ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কিন্তু নায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করব।

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদা বলেন, কোটা আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে তখন আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশান সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক তাজিন আজিজ চৌধুরী, সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement