Beta

খুলনায় অননুমোদিত প্লট, ফ্ল্যাটের ব্যবসা বেড়েই চলেছে

২১ মে ২০১৫, ১৭:৩৬ | আপডেট: ২১ মে ২০১৫, ২০:১২

অর্থনীতি ডেস্ক
ফাইল ছবি

খুলনা নগরী ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) পরিকল্পিত এলাকায় অননুমোদিত আবাসন ও অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসা বেড়েই চলেছে। প্লট, ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য বড় বড় বিজ্ঞাপন ও রঙিন সাইনবোর্ডের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা হচ্ছে।
    
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যত্রতত্র অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প নাগরিক সুবিধায় নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ বিপর্যয়, জননিরাপত্তা ব্যাহতসহ নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে।
 
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, যশোরের নোয়াপাড়ার উত্তর সীমা, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী দক্ষিণ সীমা, রূপসা উপজেলার পূর্ব সীমা ও ডুমুরিয়া উপজেলার কয়া বাজারের পশ্চিম সীমা পর্যন্ত এলাকা কেডিএ নকশার মধ্যে রয়েছে। এ এলাকার মধ্যে কোনো ধরনের আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করতে গেলে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু অর্ধশতাধিক আবাসন খাতের কোম্পানি ও শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়েই প্লট ও ফ্লাট বিক্রি করছে।
 
কেডিএর সহকারী শহর পরিকল্পনাকারী তানভির আহমেদ বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, আবাসন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুসারে গৃহায়নের ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে। একই সাথে উদ্যোক্তা, পরামর্শক ও প্রকৌশলীকে অনুমতি নিতে হবে। এর পর লাগবে ট্রেড লাইসেন্স, টিন নম্বর ও মূসক প্রদানের তথ্য।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলশান সিটি, খানজাহাননগর হাউজিং প্রকল্প, আরাফাত হাউজিং প্রকল্প, মাদানীনগর, রাজদ্বীপ, ন্যাশনাল, মহানগর হাউজিং, অর্পিতা হাউজিং, মাদানী সোসাইটি, আশিকনগর, সৌদ বাংলা, শান্তিনগর হোল্ডিং রিয়েল স্টেটের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প কেডিএ অন্তর্ভুক্ত রূপসা ও লবণচরা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
 
এসব প্রকল্পের জায়গা কাঠা দুই থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেডিএর অনুমোদন আছে কি না, তা না জেনেই ক্রেতারা জায়গা কিনছেন।
 
একাধিক প্রকল্প উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে বোঝায় যায়, তারা কেডিএর অনুমোদন নেননি। তবে অনেকেই বাড়ি তৈরির অনুমতি নিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন। 

কেডিএর এক কর্মকর্তা জানান, এক বা দুজন ব্যক্তি ভিন্ন কৌশলে প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের জন্য অনুমোদন নিয়েছেন। 

ফলে অবৈধ গৃহায়ন প্রকল্পের দায় কেডিএও এড়াতে পারে না। 

কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার বলেন, যদি কেউ কেডিএ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্লট ও ফ্ল্যাট কেনেন, তবে তিনি আইনি জটিলতায় পড়বেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।  আর প্রকল্প উদ্যোক্তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো রেজাউল করিম বলেন, ফ্ল্যাট ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই রিহ্যাবের নিয়মনীতি মানতে হবে। খুলনায় আবাসন ব্যবসা চলছে উদ্যোক্তা-মালিকদের খেয়ালখুশিমতো। প্রায়ই দেখা যায়, রাস্তা, খেলার মাঠ, পার্ক, বিশ্রামের স্থান জুড়ে প্রকল্প জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।  কোথাও কোথাও জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে। এসব ক্ষেত্রে নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার সব দায়িত্ব কেডিএর। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলীপ দত্ত বলেন, অপরিকল্পিত আবাসনের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এর কারণে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা ঘটছে, ভূমিধস হচ্ছে এবং ভূমিকম্পে ধসে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement