সেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে

০২ জুন ২০১৬, ২১:৫৩

নিজস্ব সংবাদদাতা

সেবা খাত থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আহরণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে এ খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে গ্রাহককে বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে।

জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে মূসক ব্যবস্থায় ২২টি সেবার ক্ষেত্রে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য কার্যকর রয়েছে। মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও প্রমিত মূসক ব্যবস্থা প্রবর্তনের অংশ হিসেবে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য হতে ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে মোটর গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রকৃত মূসকের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ, ডকইয়ার্ড সেবার নিট মূসকের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ, নির্মাণ সংস্থা সেবার প্রকৃত মূসকের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

বাজেট প্রস্তাবে পেট্রলিয়ামজাত পণ্য পরিবহন ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে প্রকৃত মূসকের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ করা; ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা সেবায় বিদ্যমান প্রকৃত মূসকের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ; স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারী সেবা প্রকৃত মূসকের হার ৯ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ এবং স্পন্সরশিপ সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রকৃত মূসকের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

মুহিত বলেন, ‘নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মূসকের আওতা সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। এ উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় রেখে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোশেন এলাকায় অবস্থিত সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে মূসকের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে টার্নওভার নির্বিশেষে মূসকের আওতায় তালিকাভুক্তি সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব করছি।

এ ছাড়া বর্তমানে শুধু জেলা শহরের অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক পরিশোধ ব্যবস্থপানা (ইসিআর/পিওএস) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জেলা শহরের বাইরে অবস্থিত বড় বড় রিসোর্ট, হোটেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসিআর/পিওএস মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান সাধারণ আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে।