‘অনিয়মে জড়িত মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করা হবে’

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫০

শেয়ারবাজারে অনিয়মে জড়িত ব্রোকার ডিলার এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স শিগগিরই বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে শেয়ারবাজার বিষয়ক সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন একথা জানান। এ সময় বিশেষজ্ঞরা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্তির পাশাপাশি আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদ দেন।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো বেশ পিছিয়ে। যদিও অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী দেশের পুঁজিবাজারকে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সম্ভাবনার পাশাপাশি তুলে ধরেন নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও। বিশেষ করে নীতি নির্ধারকদের সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করেন বক্তারা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ার বাজারে আনার জন্য যত ধরনের বুদ্ধি লাগে সেই কাজগুলো করতে হবে। বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে লিস্টিংয়ের ফি যদি কমানো যায়, সেটা করা যেতে পারে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, করপোরেট গভার্নেন্সে যেতেই হবে। এ সম্পর্কে যখন আমরা কথা বলি তখন আমাদের বোঝানো দরকার, এটা তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিজস্ব ব্যবসার স্বার্থেই করপোরেট গভার্নেন্স প্রয়োজন আছে।

দীর্ঘসময়ের আলোচনার পরেও সরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখনো বাজারে না আনতে পারাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। পাশাপাশি নতুন আইপিও বাজারে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

সেমিনারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের নতুন ভালো আইপিও আনতে হবে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আছে, তাদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে, সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, অনেক কিছুকে ধারণ করে কোম্পানিগুলোকে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা কোম্পানি গভার্নেন্স কোড নতুন করে করেছি। যেই সমস্ত মার্চেন্ট লাইসেন্স নিয়েছে কিন্তু আইপিও আনতে ভূমিকা পালন করেনি তাদেরকে আমরা বাদ দিবো এবং আরো অনেকগুলো উদ্যোগ আমরা নিবো।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান।