Beta

গরমে অস্থির ফুটপাতের ঈদের বাজার

১০ জুন ২০১৮, ২২:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে পছন্দের জামা কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : ফোকাস বাংলা

রোজার ঈদের কেনাকাটায় প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও নাভিশ্বাস তোলা ভিড় জমেছে রাজধানীর ফুটপাতের বাজারগুলোতে। রোদে পুড়ে, গরমে ঘেমেও থেমে নেই ঈদের কেনাকাটা। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও ফুটপাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পোশাকের দাম কম হলেও মান কম, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। ফুটপাতে দোকান ভাড়া লাগে না বা কম লাগে বলেই তারা একই পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করতে পারেন বলে জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। 

রাজধানীর ফুটপাতে সবচেয়ে বড় বাজার বসে গুলিস্তান, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজের সামনে, গাউছিয়া, ইডেন মহিলা কলেজের সামনে, মতিঝিল ও মিরপুর এলাকায়। এসব জায়গা ফুটপাতের বাজার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে দেশজুড়ে।

কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের বাজারে সব ধরনের মানুষ ভিড়। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের ফুটপাত ঘিরে রয়েছে জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, মেয়েদের পাজামা, অন্যান্য পোশাক ও স্যান্ডেলের বিশাল বাজার। সব বয়সের মেয়েদের কাছে এই স্যান্ডেলের বাজার বেশ জনপ্রিয়। যে কোনো ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায় এখানে। দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। তবে অবস্থা ভেদে সুযোগ বুঝে কিছু দোকানি দাম বেশি রাখছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুলিস্তানের বাজারগুলোতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, ছোটদের থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্টসহ সব ধরনের কাপড়-চোপড় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সব ধরনের জুতার দোকানও রয়েছে।

মগবাজার এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ ফরহাদ এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করি। আমরা মধ্যবিত্তের মানুষ। পরিবারের জন্য ফুটপাতে কেনাকাটা করি। দাম ও মান অনুযায়ী নিজের মতো করে কিনতে পারি।’

কোনাপাড়া থেকে আসা জোহরা বেগম বলেন, ‘এহানে (এখানে) মার্কেটের চেয়ে দাম কিছুটা সস্তায় পাওন যায়।’

এদিকে বড় বড় মার্কেটে দাম অনেক বেশি। দাম কম পাওয়ার কারণ হিসেবে গুলিস্তানের পাঞ্জাবি ও ছোটদের জামা বিক্রেতা সাহেব আলী বলেন, ‘এখানে যে পণ্যগুলো পাওয়া যায় তা মূলত নতুন কিন্তু কোথাও হয়তো সামান্য খুঁত থাকে। যার কারণে ওই সব পণ্য বড় মার্কেটে যেতে পারে না বলে গার্মেন্টস থেকে সরাসরি চলে আসে এসব ফুটপাতে।’

গুলশান থেকে নিউমার্কেট এলাকায় আসা মধ্যবয়সী জেরিন আক্তার বলেন, ‘আমি গুলশান থেকে যে জামা কিনেছি দুই হাজার টাকা দিয়ে, তা এখানে পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।’

 হকারদের হাঁকডাকে ফুটপাতগুলো সবসময় থাকে সরগরম। একটু দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে। ফুটপাতের অনেক দোকানেও আবার ‘একদর’ লেখা থাকে।

গুলিস্তানের হাবীব মিয়ার দোকানে মেয়েদের ওয়ান পিস জামা, শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ফুটপাতে আইলে সবাই দাম কম কয়। দাম নিয়া প্যাঁচাল পাড়তে হয় বেশি। দামাদামি করতে ভালো লাগে না। হ্যার লাইগা একদর লাগাইছি। কেউ কিনলে কিনব, না কিনলে যাইব।’

শনির আখড়া এলাকায় ফুটপাতে কেনাকাটা করতে আসা শিউলি নামের এক নারী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমার স্বামী যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তে কাজ করেন। স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। তাই আমিও বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করি। আজ সকালে ওই সব বাড়ি থেকে ঈদ উপলক্ষে বোনাস ও বেতন পাওয়ায় ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি।’

শিউলি বলেন, ‘আমাদের স্বল্প আয়। তাই ফুটপাতে কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে এখানে এখন ভালো মানের কাপড়-চোপড় পাওয়া যায়।’

হৃদি নামের এক কিশোরী জানায়, তার বাবা মনু মিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। শুক্রবার শনিরআখড়ায় ফুটপাত থেকে তার বাবা দুটি জামা কিনে দেন। তাই আজ সে মায়ের সঙ্গে ফুটপাতের দোকানে এসেছে। সে জামার সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক, চুড়ি, নেইলপলিশ ও ব্যাগ কিনেছে।

দোকানি মোকলেস জানান, প্রতিবারই রমজানের সময় ফুটপাতে দোকান বসান। মার্কেটে দোকান নিলে অনেক ভাড়া ও সেলামি দিতে হয়, তাই সেখানে দোকান নেওয়ার সামর্থ নেই। তবে ঈদের সময় ফুটপাতের দোকান দিয়ে তাঁর ভালোই আয় হয় বলে জানান এই দোকানদার।

মোকলেস জানান, এখানে বেশিরভাগ নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন কেনাকাটা করতে আসে। চাঁন রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে বলে জানান তিনি।

ফরহাদ নামের এক ক্রেতা জানান, ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দোকানে চাকরি করেন ফরহাদ। সেখান থেকে তিনি বোনাস পেয়েছেন। চাঁন রাতে গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে যাবেন ফরহাদ। মতিঝিলের ফুটপাতের দোকান থেকে বাবা, ভাইদের জন্য শার্ট ও গেঞ্জি কিনতে এসেছেন তিনি।

 ফরহাদ বলেন, ‘ফুটপাত বলে এখানে নিম্নমানের পণ্য পাওয়া যায় তা ঠিক না। এখানে গার্মেন্টসের পণ্যই বেশি।’

 অন্যদিকে নিউমার্কেটের ফুটপাতে কেনাকাটা করতে আসেন সরকারি চাকরিজীবী জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কাজের বুয়া, তাঁর মেয়ে, ছেলে ও গ্রামের কিছু মানুষকে প্রতি বছর কাপড় কিনে পাঠাতে হয় আমার। ওই সব কাপড় এখান থেকেই কম মূল্যে কিনতে আসি।’

 মতিঝিল ও গুলিস্তান ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছেলেদের শার্ট, গেঞ্জি, টি-শার্ট, প্যান্টের কাপড় পাওয়া যায় ভালো। তবে ছেলেদের জুতা, স্যান্ডেল ও চামড়ার বেল্ট পাওয়া যায় গুলিস্তানে বেশি। মতিঝিল, গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানগুলোতে তরুণদের শার্ট পাওয়া যায় নানা চেক ও ডিজাইনের। কম দামে এসব শার্ট দেখলেই কিনতে ইচ্ছে করবে। জায়গা ভেদে এসব শার্টের দাম পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়। টি-শার্টের দাম পড়বে ৩০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। জিন্স প্যান্টের দাম পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement