এবারও রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা আসতে পারে

০৪ জুন ২০১৮, ১৪:৫৬

চলতি বছরে কর আদায়ের বড় আকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে ঘাটতিতে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। তাই আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে এনবিআরকে বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আয়কর এবং শুল্ক থেকে দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এদিকে, চলতি অর্থবছরেই দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার বড় অঙ্কের কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল এনবিআরের সামনে। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়েছে এই প্রতিষ্ঠান। পরে কাটছাঁট করে সেই লক্ষ্যমাত্রাকে দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে আসা হয়।

সেই লক্ষ্য থেকেও এখনো বেশ দূরে রয়েছে এনবিআর। এ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আদায় করা হয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

তাই বছর শেষে রাজস্ব আদায়ে এনবিআর ঘাটতিতে পড়বে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে।

তাই করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এনবিআরের প্রতি পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘ভারতের তুলনায় এমনকি নেপালের তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। সুতরাং রাজস্ব যদি আমাদের কম আহরণ করি আর বাজেটের যদি বড় আকার দিই, তাহলে কিন্তু সেই বাজেট পূরণ করতে হবে বিভিন্ন পথে। সেগুলো অনেক সময় সরকারের জন্য একটা অতিরিক্ত চাপ হিসেবে আসে। এই অর্থবছরের পরের অর্থবছরে যাতে ভ্যাট আইনটা কার্যকরভাবে ইমপ্লিমেন্ট করা যায় এবং পাশাপাশি ট্যাক্সের যে অবকাঠামোটা আছে, করের যে অবকাঠামো, এনবিআর এবং ট্যাক্স প্রশাসন তাদের দক্ষতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই জায়গাগুলোতে নজরদারি দিতে হবে।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে নিতে হয় বা উচ্চ আয়ের দেশে নিতে হয়, সরকার যে রকমটা চাচ্ছে, ঘোষণা দিয়েছে তাহলে সরকারকে এই রাজস্ব নীতি এবং এই রাজস্ব প্রশাসন, এটা দিয়ে কিন্তু সেটা অর্জন করা সম্ভব না। এটা বুঝতে হবে সরকারকে। এই রাজস্ব প্রশাসন সরকারকে ১০ শতাংশের বেশি জিডিপি দিতে পারবে না। বিশেষভাবে নজর দিতে হবে রাজস্ব নীতিকে সংস্কার করার ক্ষেত্রে। রাজস্ব প্রশাসনকে সংস্কার করা। এবং এখানে আধুনিকীকরণ করা। এটা যদি আমরা না করতে পারি, আমরা যদি শুধু বিজনেস কমিউনিটির দিকে তাকিয়ে, দোকানদার এবং দোকান মালিক সমিতির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে রাজস্ব চালাতে যাই, তাহলে সরকার পিছিয়ে যাবে। সামনে এগিয়ে উঠতে পারবে না।’

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরেও বাস্তবায়ন হবে না নতুন ভ্যাট আইন। তাই পুরোনো ব্যবস্থায় ভ্যাট আইন থেকেই, সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের আশা করছে সরকার। অন্যদিকে, গুরুত্ব থাকবে আয়কর আদায়েও। তাই সরকারের নজর যেতে পারে আয়করের আওতা বাড়ানোর দিকে। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরে দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হতে পারে এনবিআরের সামনে।

আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে করপোরেট করহারে।