২৮২ পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা

২৯ মে ২০১৮, ২০:৫০

নির্বাচনের বছর হিসেবে এবার বেতন-ভাতা নিয়ে দেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সমিতি-বিজিএমইএ।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পে অসন্তোষ দূরীকরণ, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটি’র বৈঠকে এই আশঙ্কার কথা জানায় বিজিএমইএ।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটির বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পোশাক শ্রমিক ও মালিকদের প্রতিনিধি, বিজিএমইএর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ঈদুল ফিতরের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা হতে পারে এমন সাতটি কারখানার তালিকা দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সব মিলিয়ে ২৮২টি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য এক হাজার ২০০ কারখানার ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে সরকার ও মালিক সংগঠনের।

এসব বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যার অবস্থা ভালো না এ রকম মালিকের বউয়ের অলঙ্কার বিক্রি করে, ফ্যাক্টরির মেশিন বিক্রি করে, জায়গা বিক্রি করেও আমরা কিন্তু বেতনের ব্যবস্থা করেছি এবং এইটা আমরা মনে করি, বিজিএমইএ মনে করে, বিকেএমইএ মনে করে। মানে আমরা এতগুলো  সংস্থা এত সজাগ যে কেউ যদি নাও পারে তাকে আমরা হেল্প করি। প্রবলেম হয় না। হইলে ফেস করি, তারপরও হতেই পারে। সেটা খুব মাইল্ড।’

বৈঠকে ঈদের ছুটির আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পোশাক কারখানার মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও যথাসময়ে পরিশোধের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানাগুলোয় ঈদুল ফিতরের আগে আগামী ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এলাকা-ভিত্তিক ছুটি দেওয়া হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা যেন নির্বিঘ্নে ঈদ করতে বাড়ি যেতে পারে সে লক্ষ্যে জুনের প্রথম সপ্তাহে মে মাসের বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। আর ছুটির আগেই দিতে হবে উৎসব-ভাতা।