Beta

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট সম্মেলন

‘যেসব ব্যাংক ফেল করবে, তাদের ফেল করতে দেন’

০৫ মে ২০১৮, ২০:৪১ | আপডেট: ০৫ মে ২০১৮, ২১:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আজ শনিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা অনুষ্ঠানে কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান। ছবি : এনটিভি

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, আগামী তিন বছরে করপোরেট ট্যাক্স পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে চেম্বার নেতৃবৃন্দ এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এতে বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. আবুল কাসেম খান ও সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন প্রমুখ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ওই অনুষ্ঠানে আবুল কাসেম খান দেউলিয়া হয়ে পড়া কোনো ব্যাংককে জনগণের টাকায় পুনরায় অর্থ বরাদ্দ না করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ইলিগ্যাল মানিকে লিগ্যাল করার কোনো স্কোপ দিতে চাই না। মানে আমাদের কোনো প্রপোজাল নাই। ট্যাক্স ফেলের টাকাটা রি-ক্যাপিটালাইজেশনে (ব্যাংকে) যাচ্ছে। সেটা আমরা কোনোভাবে সাপোর্ট করি না। আমরা বরং বলতে চাই, যেসব ব্যাংক ফেল করবে, তাদের ফেল করতে দেন। তাহলেই কিন্তু সেক্টরটা অনেক বেশি সচেতন হবে। ট্যাক্স রিডাকশান কিন্তু ইকোনমির জন্যে ক্ষতিকর না। আপনি যদি ট্যাক্স রিডিউস করেন, ট্যাক্সটা আমাদের কাছেও থাকবে, ট্যাক্সের টাকা হবে সরকারের কারণে। আমরা সরকারের রাজস্ব কমাতে বলছি। সেই রাজস্বের টাকাটা আমার কাছে থাকবে। আমি যাতে সেটা ভালোভাবে বিনিয়োগ করতে পারি।’

লিখিত বাজেট প্রস্তাবনায় আবুল কাসেম খান বলেন, ‘যারা ট্যাক্স দেয় তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা না দিলে, মানুষ ট্যাক্স দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।’

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে করপোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। করপোরেট ট্যাক্স কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ কমানো দরকার। সেই সঙ্গে পরবর্তী দুই অর্থ বছরে আরো পাঁচ শতাংশ কমানোর প্রয়োজন। এতে ব্যবসায়ীরা বেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। বিনিয়োগ বাড়লে দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবনা তুলে ধরে আবুল কাসেম খান বলেন, আগামী বাজেটে করমুক্ত ব্যক্তি আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা দরকার। বর্তমানে আড়াই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় হলে ১৫ শতাংশ, পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ছয় থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং ৩০ লাখের বেশি হলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালে মানুষের জীবনযাত্রা আরো সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ আগামী বাজেটে অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়নে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে বাজেটে ট্যাক্স কার্ড হোল্ডাদের প্রদত্ত সুবিধাগুলো অবহিত করতে একটি বিশেষ সেল গঠন করার প্রস্তাবনা দেন।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম বন্দরকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, যানজট নিরসন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন থেকে আট লেনে উন্নীত করা জরুরি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অবৈধ টাকা বৈধ করার সুযোগ ডিসিসিআই সমর্থন করে না। তবে যে টাকা বৈধভাবে উপার্জন করা হয়েছে, কিন্তু ট্যাক্সফাইল করা হয়নি-সেগুলোকে ট্যাক্সের আওতায় আনার সুযোগ দিতে হবে। তিনি এলএনজি গ্যাসের দাম যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের দাবি করেন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement