Beta

প্রধানমন্ত্রী যেন নোবেল না পান, সে জন্য আবরার হত্যাকাণ্ড হতে পারে : চসিক মেয়র

১৩ অক্টোবর ২০১৯, ১০:০৪

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন নোবেল পুরস্কার না পান, সে জন্য ষড়যন্ত্র করে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকটি ওয়ার্ডের সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মেয়র নাছির। বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা নিয়ে দেশব্যাপী ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেই মেয়র এই কথা বলেন।

এ সময় মেয়র বলেন, ‘শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নামও সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় ছিল। নোবেল কমিটি নোবেল প্রাইজের জন্য যেদিন বসেছে, সেদিনই কিন্তু এ কাজটি হয়েছে। এখানে তো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত থাকতে পারে, যাতে উনি নোবেল প্রাইজটা না পান।’

আবরার হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র নাছির আরো বলেন, ‘এটা যাঁরা করেছেন, এতে কি দলের কোনো নির্দেশনা আছে? কোনো নির্দেশনা নেই। এটা তাঁরা অতি উৎসাহী হয়ে করেছেন। এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, তাঁদের দিয়ে কেউ এই কাজ করিয়েছে কি না।’

মেয়র আরো বলেন, ‘আমেরিকাকে সভ্য দেশ ও সভ্য জাতি হিসেবে আমরা জানি। ব্রিটেন, ইউরোপ, কানাডা এগুলো সভ্য দেশ, সভ্য জাতি। সেখানেও কিন্তু মার্ডার হচ্ছে। পার্সেন্টেজ যদি হিসাব করেন, আমাদের দেশে যে পার্সেন্টেজে ক্রাইম হচ্ছে, ওই দেশগুলোতে আরো বেশি হচ্ছে। এগুলো প্রমাণিত সত্য। এগুলো আমার মুখের কথা নয়, ডকুমেন্টের এবং দায়িত্ব নিয়ে বলছি। সেখানে স্কুলে কোমলমতি শিশুদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে না? হাসপাতালে হচ্ছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে, অহরহ হচ্ছে। তারপর তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের কাছে সোপর্দ করা হয়।’

‘আমাদের এখানে অপরাধীরা পার পেয়ে যেত একসময়। সে জন্যই অনেকের মনে শঙ্কা। আইনের প্রতি এবং সরকারের প্রতি একটা অসম্মান তৈরি হতো। এখন এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদেরই পাওয়া গেছে, তাদেরকেই।’

মেয়র আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করে। তারপর সরকার-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর কী করতে পারে? এরপর চার্জশিট দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। এখন যেনতেনভাবে তো চার্জশিট দিলে হবে না। চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে। অপরাধ প্রমাণ হলেই তো বিচার হবে। গায়ের জোরে তো কেউ কাউকে শাস্তি দিতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন; এরপরও এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। রাজনীতি কারা করছে? ওই একই গোষ্ঠী। কারণ, কোটা আন্দোলন কারা করেছে? ছাত্রদল, শিবির এগুলোতে সম্পৃক্ত ছিল। এখনো এটাতে তাই হচ্ছে।’

Advertisement