Beta

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মাজেদ রিমান্ডে

১২ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:১৮

আদালত প্রতিবেদক
বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার ৮ নম্বর আসামি মো. মাজেদুল ইসলাম মাজেদকে আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার মো. মাজেদুল ইসলাম মাজেদকে (২১) পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি এ আদেশ দেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ৮ নম্বর আসামি মাজেদকে গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে সিলেটের শাহ কিরণ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

মাজেদ বুয়েটের ম্যাটেরিয়াল অ্যান্ড মেটালারজিক্যাল (এমএমই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি শেরেবাংলা হলের বাসিন্দা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওয়াহিদুজ্জামান আসামি মাজেদকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন।

এর আগে আজ সকালে এজাহারভুক্ত আরো এক আসামিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মো. মুয়াজ আবু হুরায়রা (২১) বুয়েটের ইইই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি এই মামলার ১৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া উইংয়ের উপকমিশনার ওবাইদুর রহমান দুপুরে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে মুয়াজকে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।’

গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পরের দিন ৭ অক্টোবর  আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। সেই রাতেই বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১১ জনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আজ শনিবার পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর  পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় প্রথম ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার ৫ নম্বর আসামি বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল।

গতকাল শুক্রবার জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার ৭ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।

আজ শনিবার জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার ৩ নম্বর আসামি ও বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। এ চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement