Beta

টেকনাফ বন্দরে ট্রলারেই পঁচে যাচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ

০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৮

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে খালাস করা হচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। ছবি: এনটিভি

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ খালাসের আগেই ট্রলারে পঁচে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানায়, সরকার পেঁয়াজ আমদানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও টেকনাফ স্থলবন্দরে পচনশীল এই পণ্য ট্রলার থেকে খালাসে যে ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই। পর্যাপ্ত জেটি ও শ্রমিকের অভাবে মূলত ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস করতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বন্দরে নোঙ্গর করার দুই থেকে তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস করা যাচ্ছে না।

মঙ্গবার টেকনাফ স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, পঁচা পেঁয়াজের গন্ধে বন্দরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। এ ছাড়া খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে আটটি পেঁয়াজবাহী ট্রলার নোঙর করা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশীয় বাজারে সংকটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে পেঁয়াজের দর দ্রুত বাড়তে থাকে। এ সময়ে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করে ব্যবসায়ীরা। প্রথম দিকে পেঁয়াজের চালান দ্রুত দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করা হলেও এখন শ্রমিক সংকট ও দুইটি মাত্র জেটি দিয়ে আমদানি-রপ্তানির মালামাল লোড-আপলোডের কারণে সময় বেশি লাগছে। ফলে শত শত বস্তা পেঁয়াজ ট্রলারেই পঁচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ আমদানিতে অনাগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে।

আমদানিকারক এএফ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম জানান, খালাস করতে দেরি হওয়ার কারণে মঙ্গলবার তাঁর ট্রলারের আমদানি করা ৮০০ বস্তা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সেগুলো থেকে ভালো পেঁয়াজ বাছাই করে কোনোরকমে লোকসান কমানোর চেষ্টায় আছেন। একইভাবে অন্য ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে খালাসে দেরি হওয়ার কারণে।

এর পেছনে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অসৎ উদ্দেশ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী।

সময় নষ্ট করে ট্রাকে লোড করা পণ্য  বিকেল ৫টার পর স্কেলে তোলা গেলে একেকটি ট্রাক থেকে নাইটচার্জ হিসেবে বন্দরের অতিরিক্ত আয় হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মতো। আবার রাতের শ্রমিকদের দিতে হয় অতিরিক্ত চার্জ। এটাও দেরি করার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন জেটি ও শ্রমিক সংকটের কথা অস্বীকার করে জানান, বন্দরে কোনো ধরনের শ্রমিক সংকট নেই। দুটি জেটি দিয়ে দ্রুত সময়ে পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে। মূলত মিয়ানমার থেকেই পঁচা পেঁয়াজ আসছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত ট্রলার নোঙ্গর করে থাকলে কেন খালাস হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমদানি ঘোষণাপত্রসহ (আইজিএম) অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দিতে না পারায় দেরি হচ্ছে। এমনকি পেঁয়াজ খালাসের জন্য রাতে অতিরিক্ত শ্রমিক এনেও ব্যবসায়ীরা আনলোড করতে রাজি না হওয়ায় সেসব শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামূল হক দাবি করেছেন, জাহাজ বন্দরে নোঙ্গর করার সঙ্গে সঙ্গেই আইজিএম জমা দেওয়া হয়। কাঁচা পণ্য হিসেবে যত দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করার কথা, বন্দর কর্তৃপক্ষ শত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তাদের সেই সামর্থ না থাকায় আসলে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে পেঁয়াজের মতো বাজার অস্থিতিশীল করা পণ্য পঁচে যাচ্ছে ট্রলারেই। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে গত গত সোমবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৭৯.৩৩৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ৫০০ মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। তবে এদিন মিয়ানমার থেকে কোনো পেঁয়াজের ট্রলার আসেনি।

Advertisement