Beta

বৌদ্ধধর্মীয় গুরু সত্যপ্রিয় মহাথেরো আর নেই

০৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৪ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৫

একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধধর্মীয় গুরু সত্যপ্রিয় মহাথেরো। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ বৌদ্ধধর্মীয় গুরু কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের অধ্যক্ষ পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো আর নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরোর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও অর্জন

সত্যপ্রিয় মহাথেরো ১৯৩০ সালের ১০ জুন কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হরকুমার বড়ুয়া ও মায়ের নাম প্রেমময়ী বড়ুয়া। তিন সন্তানের মধ্যে সত্যপ্রিয় মহাথেরো সবার ছোট। তাঁর পিতৃদত্ত নাম বিধুভূষণ বড়ুয়া। ১৯৫০ সালে প্রবজ্যা ধর্মে দীক্ষিত হয়ে সত্যপ্রিয় নাম ধারণ করেন তিনি। পরের বছর তিনি ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষিত হন। ১৯৫৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য মিয়ানমার পাড়ি জমান সত্যপ্রিয়। সেখানে তিনি ১০ বছর লেখাপড়া, গ্রন্থ রচনা ও সাধনা করেন।

মিয়ানমার থেকে ১৯৬৪ সালে দেশে ফিরে তিনি রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারে পাঠদানে যোগ দেন। মৃত্যুর আগে তিনি ওই বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়া ২০০৬ সালে বাংলাদেশি বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির পদ লাভ করেন তিনি।

সত্যপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্মবিষয়ক অনেক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ত্রিপিটকের অভিধর্ম পিটকের অন্তর্গত ‘চুল্লবর্গ’ গ্রন্থ পালি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সত্যপ্রিয় মহাথেরো সমাজসেবায় ২০১৫ সালে একুশে পদক, ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ কর্তৃক শান্তি পুরস্কার, সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০০৩ সালে মিয়ানমার থেকে ‘অগ্গমহাসদ্ধর্মজ্যোতিপতাকা’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

Advertisement