Beta

জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটি সংস্করণ মিন্নি : আইনজীবী

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে আজ রোববার দেখা করতে আসেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও তাঁর বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেড আই খান পান্না। ছবি : এনটিভি

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেছেন, অভিযোগপত্রের কথা তো আগাগোড়াই বলেছি, এটি একটি মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য এ ধরনের কারবার করা হয়েছে। নাথিং নিউ। জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটি সংস্করণ।

মিন্নি ও তাঁর বাবা মোজাম্মেল আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে জেড আই খান পান্নার চেম্বারে আসেন। এ সময় অনেক আইনজীবী মিন্নিকে দেখতে আসেন। আইনজীবীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিন্নি। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাঁরা ওই চেম্বারে ছিলেন।

পরে আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়াই বলেছি, এটি একটি মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য এ ধরনের কারবার করা হয়েছে। নাথিং নিউ। জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটি সংস্করণ।’

আদালতে মিন্নির দেওয়া জবানবন্দি প্রকাশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, ‘দেখেছি। আমি তো কোর্টে বসেই দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে দিতে বলেছিল, তখন এক নজর দেখেছি। সেটিও (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) একটি উপন্যাস। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি কোর্টকে বলেছেন, এত সুন্দর করে লেখা, যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় এত সুন্দরভাবে লিখতে পারে না।’

এটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন? জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, ‘আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছেন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘এটি তো পুলিশের কাছে ছিল। সেখানটা বাদে তো আর আসতে পারে না। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি এটি গণমাধ্যমে এসেছে। কোর্টের কাছে দেওয়ার আগে এটি প্রকাশিত হয়েছে।’

এটি ঠিক হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘এটি ঠিক হয়নি। এটি আদালত অবমাননা।’

পরে দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম আমিন উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে আইনি পরামর্শ করেন মিন্নি ও তাঁর বাবা। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। এ সময় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মিন্নি ও তাঁর বাবাকে দুপুরের খাবার খাওয়ান। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বার ছেড়ে ঢাকায় আত্মীয়র বাসায় চলে যান মিন্নি ও তাঁর বাবা।

যাওয়ার আগে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর জয়েন্টে জয়েন্টে বেত দিয়ে পিটিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশের একজন মহিলা মিন্নিকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। পরে পিস্তল ঠেকিয়ে তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। সেই স্বাক্ষর নিয়ে আদালতে জমা দেওয়া হয়। মিন্নিকে নির্যাতন করায় সে শারীরিকভাবে অসুস্থ। ঢাকায় তাঁর চিকিৎসা করাব।

মোজাম্মেল বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চে করে রওনা দিয়েছি। সকাল সাড়ে ৭টায় সদরঘাটে এসে পৌঁছাই। হাইকোর্টে সকাল সাড়ে ১০টার পর এসেছি। এখানে আইনজীবীরা মিন্নির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এখানে এসেছি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে জামিনে থাকাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না বলে শর্ত দেন আদালত।

গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় মিন্নি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। খুনিরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরের দিন সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মিন্নি ছিলেন সেই মামলার এক নম্বর সাক্ষী। পরে ১৬ জুলাই রাতে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরের দিন বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Advertisement