Beta

আমরা এখন প্রজায় পরিণত হয়েছি: সুলতানা কামাল

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। ছবি : এনটিভি

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ জনমানুষের দল। আমি বিশ্বাস করি অন্য যেকোনো দলের তুলনায় মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা তাদের বেশি। কিন্তু তারা এ জায়গায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে যে নাগরিককে নাগরিক বোধটা দিতে। ক্রমশ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন প্রজায় পরিণত হয়েছি।’  

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে যাত্রী হয়রানি ও দুর্ঘটনা কমছে না। দায়িত্বশীলরাও এড়িয়ে যাচ্ছেন দায়িত্ব।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সমাজে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাস্তা ভালো না, ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ খায়, আরও অনেক সমস্যার কথা বলতে শুনি। কিন্তু কথা হচ্ছে এগুলোর কারণে যাত্রীরা কেন ভোগান্তির শিকার হবে। কাজের জন্য প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এখন গাড়িতে উঠে আমরা বসার জায়গায় পাব কিনা সেটা নিয়ে ভাবি না, ভাবি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো কিনা! মেয়েরা ভাবে সম্মান নিয়ে, ধর্ষিত না হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো তো!’

তিনি বলেন, ‘দেশে সুশাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি। সুশাসন না থাকলে এ ধরনের অরাজকতা চলতেই থাকবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়তে থাকবে।’

ঢাকা শহরে প্রতিদিন ৫০ হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে- এমন তথ্য তুলে ধরে আলোচনায় বক্তারা বলেন, এর অন্যতম কারণ অত্যাধিক প্রাইভেটকার। পরিবহনের পরিবর্তে হাঁটায়ও উৎসাহী হচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রাইভেটকার উন্নতির স্বারক, এটা একেবারেই কলোনিয়াল চিন্তা। এই জায়গায় আমরা দাঁড়াচ্ছি। প্রাইভেটকারকে উন্নয়নের স্বারক হিসেবে না দেখে আমরা যেন গণপরিবহনকে উন্নয়নের স্বারক হিসেবে দেখি।’

তিনি বলেন, ‘একটা ডেডিকেটেড বাস লেন যদি আমরা তৈরী করতে না পারি তাহলে আমাদের ঢাকা শহরের যে বাস্তবতা সেখানে গণপরিবহনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব সৃষ্টি করতে পারব না।’

যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘লক্ষ কোটি অংশ যে পথ দিয়ে চলছে তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নাই। ফুটপাত ঠিক করার আওয়াজ তুলুন।’  

আলোচনা সভায় ১৩ সেপ্টেম্বরকে যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয় সরকারের কাছে।

Advertisement