Beta

বাবা-ছেলে আলাদা রাজনীতি করতেই পারে : ফখরুল

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : এনটিভি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে এমনটা থাকতেই পারে যে বাবা একটা রাজনীতি করবেন, আমি একটা রাজনীতি করব। আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন, আমি একটা করতাম। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। এ সভা শেষে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলনের। সেখানে ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় ফখরুল আরো বলেন, ‘এখন তো ছেলে বিপদে পড়ে যাচ্ছে। তাঁর বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকেন, তাহলে তাঁর ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তাঁর ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা তো এখন বলতে পারব না। তবে মানববন্ধন হবে। এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আগামী রোববার মৎস্যজীবী দল, সোমবার মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার তাঁতী দল, বুধবার অ্যাব মানববন্ধন করবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।’

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর প্রাপ্য জামিন থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ জন্য তাঁর মুক্তির দাবিতে আমরা যে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করছি, আজকের যৌথ সভায় সে আন্দোলনের আরেকটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি।’

ফখরুল আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গেছেন। প্রতিহিংসাটা এমনই যে অত্যন্ত গভীরে। আজকের শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে না, যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন। সে কারণে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা আরো অভিযোগ করেন, ‘একই ধরনের মামলায় অন্য যাঁরা সাজা পেয়েছেন, তাঁরা জামিনে আছেন। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগেও বলেছি, পৃথিবীর ইতিহাসে বোধ হয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এত বেশি সাফার করেছে। দুই মাস আগের হিসাবে ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলা, পাঁচশর ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। করলে বিরোধীদের অস্তিত্ব থাকত না। এ কথাটা বলে উনি কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন?’

মহিলা দলনেত্রী রাজিয়া আলিমকে গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গ্রেপ্তার এখনো চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ।

Advertisement