Beta

সালিশ বসিয়ে পিটিয়ে হত্যা

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২১

সালিশে মারধরের ঘটনায় নিহত আসাদুল রনির লাশ। ছবি : এনটিভি

গাজীপুরে সালিশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নয় বছরের শিশুকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ওই সালিশ বসেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মহানগরীর দক্ষিণ বরুদা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

নিহত ব্যক্তির নাম আসাদুল রনি (৩৫)। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জোড়পুকুরপাড় এলাকার একটি জেন্টস পার্লারে কাজ করতেন। রনি নওগাঁ জেলা সদরের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা। গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ বরুদা এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তিনি।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান জানান, জেন্টস পার্লারের তিন মালিকের একজন হলেন রিংকু। রিংকুর নয় বছরের এক শিশুকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে বরুদা এলাকায় রিংকুর ভাড়া বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর লোকজন ও রনিকে নিয়ে সালিশ বসে। এক পর্যায়ে রিংকু ও তাঁর লোকজন উত্তেজিত হয়ে রনিকে রড ও লোহারপাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।

পরে গুরুতর অবস্থায় রনিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। রনি মারা গেছে শুনে তার লাশ হাসপাতালে রেখে সঙ্গে আসা লোকজন পালাতে শুরু করে। এ সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বুঝতে পেরে দুইজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে পুলিশ আশেপাশে অভিযান চালিয়ে আরো তিনজনকে আটক করে।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত রনি এবং আটকরা একই জেন্টস পার্লারে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ওই জেন্টস্ পার্লারের কর্মচারী আল-আমিন (১৯), রিমন (২০), লাইজু (২৫), রিমন (১৮) এবং আজিজুর (২৫)।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) প্রণয় ভূষণ দাস জানান, মৃত অবস্থায় রনিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

নিহত রনির ছোট ভাই হোসেন মণ্ডল বাদী হয়ে আজ শুক্রবার সকালে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দুইজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন।

Advertisement