Beta

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন

আ.লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের ঢাকা মিশন

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪১

সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এ মোতালেব, নুরুল আবছার চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার, কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, বশির আহমদ চৌধুরী ও আবু ছালেহ। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণের এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ রাখা হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। ১৫ সেপ্টেম্বর বাছাই ও ২২ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার দিন থেকেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখটি খুবই সন্নিকটে। এ কম সময়ের মধ্যেই দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতকরণে আধডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মিশনে নেমেছেন।

সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করে দলীয় কার্যালয়, নেতাদের অফিস ও বাসায় ধরনা দিচ্ছেন নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য। বর্তমানে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, সাতকানিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব, সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি বশির আহমদ চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু ছালেহ।

এর মধ্যে নুরুল আবছার চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার ও আবু ছালেহ মাঠে বেশ তৎপর। এ ছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও নানা কর্মসূচি পালন করার কারণে তিনিও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমি দলের কাছে মনোনয়নের জন্য আবেদন করিনি। দল যদি সঠিক মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নির্বাচন করব এবং বিজয়ী হবো। আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্যজনকে মনোনয়ন দিলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।’

সূত্রে প্রকাশ, ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ৬৪ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী জসীম উদ্দীন। তাঁর বিপরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল আবছার চৌধুরী পান ৪৫ হাজার ৮৪০ ভোট। আর ২৯ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন।

বর্তমানে বিএনপি কিংবা জামায়াতের পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচন করবেন কি না বা করলেও প্রার্থী কে হবেন, তা আলোচনায় না এলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন।

দলের মনোনয়নের বিষয়ে নুরুল আফসার চৌধুরী বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করার জন্য আমার দলের কিছু নেতা আমার একই বাড়ি থেকে অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিলেন। আমি দলীয় ষড়যন্ত্রের কারণেই হেরেছিলাম। এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলে আমার বিজয় নিশ্চিত।’

প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার বলেন, ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখার কথা বলে জামায়াত শিবির যে তাণ্ডব শুরু করেছিল, তা প্রতিরোধের জন্য আমিই দলীয় নেতাদের সংগঠিত করেছিলাম। আজকের মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতা সেই দিন সাতকানিয়ায় যাননি। আমি মনোনয়ন পেলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হবেন। বিজয়ের সম্ভাবনাও শতভাগ। কারণ, আমিও তৃণমূলের রাজনীতি করে এ পর্যায়ে এসেছি।’

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দলের দুঃসময়ে তৃণমূলের ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলকে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠিত করেছি। প্রতিটা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জানবাজি রেখে ভূমিকা রেখেছি। সবকিছু মিলিয়ে দলীয় মনোনয়ন আমি পাব বলে আশা রাখি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।’

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু ছালেহ বলেন, ‘সাতকানিয়ার মধ্যে আমার পরিবারটি নির্যাতিত পরিবার। আওয়ামী লীগ করার কারণে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছাত্রজীবন থেকে মুজিব আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সাতকানিয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন আমার জানাশোনা। আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় হবেই হবে।’

Advertisement